ট্রাম্পের ঘোষণায় বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম, কমলো সোনার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ঘোষণায় অস্থির হয়ে উঠেছে বিশ্ববাজার। ইরানের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিচুক্তি ‘শেষ’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেক বেড়েছে। বিপরীতে বড় পতন হয়েছে সোনার দামে।
বুধবার (৮ জুলাই) বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন দেখা গেছে। স্পট গোল্ড বা আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। প্রতি আউন্স সোনার দাম নেমেছে ৪ হাজার ৪৯ দশমিক ৯২ ডলারে। গত ২ জুলাইয়ের পর এটিই সোনার সর্বনিম্ন দাম। খবর রয়টার্সের
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে আগস্টে সরবরাহের চুক্তি অনুযায়ী সোনার দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৯ দশমিক ৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে ছয় শতাংশের বেশি বেড়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, গত জুনে ইরানের সঙ্গে চার মাসের সংঘাত অবসানে যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল, তা এখন ‘অতীত’। তেহরানের সঙ্গে নতুন করে কোনো আলোচনায় জড়াতে চান না বলেও জানান তিনি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা এবং তেল বিক্রির লাইসেন্স বাতিলের জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস। এই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাই তেলের বাজারকে অস্থির করে তুলেছে।
ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভানি স্টাউনোভো জানান, তেলের দাম এভাবে বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। এটি মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) আগামী বৈঠকগুলোর সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এখন সবার নজর, আগামী সপ্তাহগুলোতে তেল সরবরাহে আর কোনো বিঘ্ন ঘটে কি না।
সাধারণত সোনাকে মূল্যস্ফীতি মোকাবিলার হাতিয়ার মনে করা হলেও, সুদহার বাড়লে এই ধাতুর ওপর চাপ তৈরি হয়। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরে সুদহার বাড়ার সম্ভাবনা এখন ৬৮ শতাংশে ঠেকেছে, যা মঙ্গলবার ছিল ৬২ শতাংশ।
বুধবার সোনার পাশাপাশি রুপার দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ৪৫ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ৪ দশমিক ১ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম ৪ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে।
