৮ ভিসিকে একযোগে অপসারণ, ইউটিএলের উদ্বেগ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, ০১:৩১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
একসঙ্গে ৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) আকস্মিকভাবে অপসারণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানান ইউটিএলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. যোবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক এবং সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন।
বিবৃতিতে জানানো হয়, সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই এ ধরনের সিদ্ধান্ত উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। কেন এবং কোন প্রেক্ষাপটে হঠাৎ করে বর্তমান ভিসিদের নিয়োগ বাতিল করে নতুনদের নিয়োগ দেওয়া হলো, সে বিষয়ে কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা নেই। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত বিরল এবং শিষ্টাচারবিরোধী বলেও তারা উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে থাকা শিক্ষক ও পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের প্রতি অসম্মানজনক। পূর্বে একাডেমিক ও প্রশাসনিক যোগ্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে ভিসি নিয়োগ দেওয়া হলেও, বর্তমান ভিসিদের ক্ষেত্রে কোনো পূর্ব আলোচনা বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তাদের অপসারণ করা হয়েছে। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত প্রশাসনিক রীতি ও শিষ্টাচারের পরিপন্থি।
আরো পড়ুন : কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই একসঙ্গে ৮ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বদল
ইউটিএল নেতারা বলেন, একজন শিক্ষক তার পেশাজীবনের সর্বোচ্চ সম্মান হিসেবে ভিসির পদে আসীন হন। কিন্তু যথাযথ সৌজন্য ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় নতুন ভিসি নিয়োগ দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চিরাচরিত শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন।
তারা আরো উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে, বিশেষ করে ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশের বাইরে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভিসিরা সাধারণত চার বছরের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এই মেয়াদে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেন। কিন্তু এ ধরনের আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রাতিষ্ঠানিক ও একাডেমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।
