রুদ্ধশ্বাস লড়াই জিতে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৫ এএম
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপের অন্যতম রোমাঞ্চকর এক লড়াই উপহার দিলো আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দে। টানটান উত্তেজনায় ভরা ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কেপ ভার্দে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যেভাবে লড়েছে, তাতে তাদের পরাজিত বললেও যেন কম বলা হয়। নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপেই বিশ্বফুটবলে শক্ত বার্তা দিয়ে রাখল আফ্রিকার দেশটি।
ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্তেই ছিল উত্তেজনা, লড়াই আর আত্মবিশ্বাসের ছাপ। আর্জেন্টিনা যেমন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে এমন লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই শিরোপা জিতেছিল, তেমনি কেপ ভার্দেও দেখিয়ে দিল তারা কেবল অংশ নিতে আসেনি। প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে নেমেই স্পেন ও উরুগুয়ের মতো দলকে রুখে দেওয়ার আত্মবিশ্বাসই যেন এদিন তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছিল।
মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ইতিবাচক ফুটবল খেলেছে কেপ ভার্দে। তবে ম্যাচের ২৮তম মিনিটে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। নিজেদের অর্ধ থেকে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের নিখুঁত লং পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সের ভেতর থেকে জোরালো শটে গোলরক্ষক দোসিমার দিয়াজ ভোজিনহাকে পরাস্ত করেন তিনি।
এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে টানা অষ্টম ম্যাচে গোল করার কীর্তি গড়লেন মেসি। এর আগে টানা সাত ম্যাচে গোল করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে ২০-এ নিয়ে গেলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রেখে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা কিছুটা ছন্দ হারালে সুযোগ লুফে নেয় কেপ ভার্দে। ৫৯তম মিনিটে রায়ান মেন্দেসের ডান প্রান্ত থেকে বাড়ানো বল ধরে ডেরয় দুয়ার্তে দুর্দান্ত শটে এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করে ম্যাচে সমতা ফেরান। লিড এনে দেওয়া লিসান্দ্রো মার্টিনেজ দ্রুত এগিয়ে এলেও দুয়ার্তেকে আটকাতে পারেননি।
নির্ধারিত সময়ের বাকি অংশজুড়ে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার অসাধারণ নৈপুণ্যই ছিল সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। মেসির দুটি দুর্দান্ত ফ্রি-কিক ঠেকানোর পাশাপাশি আরো কয়েকটি নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করে দেন তিনি। ফলে ১-১ সমতায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
আরো পড়ুন : ব্রাজিলের কাছে এখনও যে সমীকরণে পিছিয়ে আর্জেন্টিনা
তবে অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই আবার এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ৯১তম মিনিটে কর্নার থেকে আসা বল একাধিক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে ফাঁকায় থাকা লিসান্দ্রো মার্টিনেজের কাছে পৌঁছায়। সবাই যখন ক্রসের অপেক্ষায়, তখন কঠিন কোণ থেকে জোরালো শটে ভোজিনহাকে পরাস্ত করে দলকে আবারও লিড এনে দেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ডিফেন্ডার।
তবে কেপ ভার্দে আবারও হার মানেনি। ১০৩তম মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে ভেতরে কেটে এসে সিডনি ক্যাব্রাল দারুণ এক বাঁকানো শটে এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে হতবাক করে সমতা ফেরান। ম্যাচ তখন আবারও জমে ওঠে।
শেষ পর্যন্ত ১১১তম মিনিটে আসে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণকারী গোল। মেসির কর্নার থেকে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর হেড জালে ঢোকার আগে কেপ ভার্দের এক ডিফেন্ডারের হাতে লেগে দিক বদলায়। সেটিই আত্মঘাতী গোল হিসেবে গণ্য হলে ৩-২ ব্যবধানে আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
বাকি সময়েও কেপ ভার্দে সমতা ফেরানোর মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যায়। অন্যদিকে আর্জেন্টিনাকেও আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই দিকেই সমান মনোযোগ দিতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। কঠিন পরীক্ষা উতরে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিলেও, বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের উজ্জ্বল ছাপ রেখে গেল কেপ ভার্দে।
