জুলাই আন্দোলনকারীরাই একদিন বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে : প্রধান উপদেষ্টা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি : সংগৃহীত
জুলাই আন্দোলনকারীরাই একদিন বিশ্ব নেতৃত্বে পৌঁছাবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনে যেমন জুলাই আন্দোলন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছিল, তেমনি তথ্যপ্রযুক্তি খাত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপান্তরের প্রধান চালিকাশক্তি হবে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো–২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার পর যে গণবিক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত একটি মহাশক্তিশালী সরকারের পতনের পথ তৈরি করেছিল। এই প্রজন্মের সাহস, চিন্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর মানসিকতাই একদিন বিশ্ব নেতৃত্ব দেবে।
আরো পড়ুন : ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিত চেয়ে রিট
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ডিজিটাল খাতই এখন মূল খাত। এখান থেকেই পরিবর্তন আসবে এবং অন্যান্য সব খাত প্রভাবিত হবে।
নাগরিক সেবার ডিজিটালাইজেশন প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, কাগজে-কলমে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে সেগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন হয়নি। সরকার শুধু একটি কার্যকর সিস্টেম তৈরি করে জনগণের হাতে ছেড়ে দেবে, মানুষ নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সেটি ব্যবহার করবে—এটাই তথ্যপ্রযুক্তির প্রকৃত শক্তি।
পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাহাড়ের তিন জেলায় প্রায় আড়াই হাজার স্কুল থাকলেও মাত্র ১২টি স্কুলে ইন্টারনেট সংযোগ ছিল। যেখানে শিক্ষক নেই, সেখানে ইন্টারনেটই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর শিক্ষক।
চাকরিকেন্দ্রিক মানসিকতার সমালোচনা করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সবার জন্য চাকরি নিশ্চিত করার ধারণা একটি ভুল দর্শন, যা দাসপ্রথার মতো। উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারকে সহায়কের ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি মনে করেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার পাঁচ বছরের বেশি একই চাকরিতে থাকা উচিত নয়। এতে চিন্তার জড়তা তৈরি হয় এবং সৃজনশীলতা নষ্ট হয়। একইভাবে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ বছর পরপর নতুনভাবে পুনর্গঠন করা দরকার, কারণ সময় বদলালেও অনেকেই পুরোনো মানসিকতা নিয়ে থেকে যান।
জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ জালিয়াতিতে সেরা হওয়ার বদনাম কুড়িয়েছে, যা দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। প্রযুক্তিতে এগিয়ে যেতে হলে এই সংস্কৃতি বন্ধ করতেই হবে। আমরা মাথা উঁচু করে চলতে চাই, এবং সেই সামর্থ্য বাংলাদেশের রয়েছে।
