সামরিক সহযোগিতা জোরদারে একমত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরো জোরদারে পারস্পরিক ঐকমত্য প্রকাশ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র ৯ম ল্যান্ড ফোর্সেস টকস–২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকা সেনানিবাসে সেনা ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের কনফারেন্স রুমে দুই দিনব্যাপী (২৬–২৭ জানুয়ারি) এই বৈঠকের সফল সমাপ্তি ঘটে।
আইএসপিআর জানায়, চলতি বৈঠকটি গত ৮–১০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ৯ম ল্যান্ড ফোর্সেস টকসের পরবর্তী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়। এতে উভয় দেশের সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আরো পড়ুন : জুলাই আন্দোলনকারীরাই একদিন বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে : প্রধান উপদেষ্টা
আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষে ২২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে, যার নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সামরিক প্রশিক্ষণ পরিদপ্তরের লে. কর্নেল মোহাম্মদ বদরুল হক। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চার সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক আর্মি কমান্ডের নিরাপত্তা সহযোগিতা বিভাগের মেজর মাইকেল জেকব ওসটার। বৈঠকের উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে সামরিক প্রশিক্ষণ পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. হুমায়ূন কবীর উপস্থিত ছিলেন।
আইএসপিআর আরো জানায়, আলোচনা পর্বে উভয় পক্ষ সামরিক সহযোগিতা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন। প্রশিক্ষণ আদান-প্রদান, আধুনিক প্রযুক্তি ও সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহারে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিশেষ করে, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যৌথ প্রশিক্ষণ ও মহড়ার আয়োজন এবং উদ্ভাবনী প্রশিক্ষণ পদ্ধতি বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। প্রতিনিধিরা উভয় দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান কৌশলগত সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন।
এছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার, প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলায় সম্মিলিত প্রস্তুতি গ্রহণ এবং বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এসব উদ্যোগ ভবিষ্যতে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে।
