দেশজুড়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন ২৮ জুন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:২১ এএম
ছবি : সংগৃহীত
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ২৮ জুন। এ ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, এবার মোট দুই কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন, যাদের নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। আর ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন, যাদের লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনূস আলী জানান, আগামী ২৮ জুন ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরো ৫০০টি মোবাইল কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ক্যাপসুলগুলো ইতোমধ্যে পৌঁছেছে এবং বাকি অংশও আগামী ১৯ তারিখের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ক্যাম্পেইন সফল করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং অভিভাবকদের নিজ নিজ এলাকার কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।
আরো পড়ুন : হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু: মোট ৬৫৭
এদিকে রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন আবার শুরু করা হয়েছে এবং এটি সফল করতে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ১৯ কোটি প্রাক-বিদ্যালয় বয়সী শিশু ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতির ঝুঁকিতে রয়েছে, যাদের অধিকাংশ আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে বসবাস করে। ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতির কারণে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, রাতকানা এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে অন্ধত্বও দেখা দিতে পারে।
বাংলাদেশে শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা প্রতিরোধে ১৯৭৩ সালে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল কার্যক্রম শুরু হয়। তখন এটি ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচিত ছিল। পরে ১৯৯৫ সালে জাতীয় টিকাদান দিবসের সঙ্গে যুক্ত করা হয় এবং ২০০৩ সাল থেকে এটি ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’ নামে পরিচালিত হচ্ছে। ২০১১ সালে কার্যক্রমটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস)-এর আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
