হাম ও উপসর্গে একদিনে রেকর্ড ১৭ শিশুর মৃত্যু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশে হাম পরিস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ২ জন এবং উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ১৫ জন। একদিনে এত সংখ্যক শিশুমৃত্যুর ঘটনা আগে দেখা যায়নি।
সোমবার (৪ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম নিয়ে ভর্তি হয়েছে ১,৪৫৬ জন রোগী।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুম জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১,৩০২ জন। আর গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১,৭৯৩ জনে।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৫৪ জন। ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত মোট নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ৫,৪৬৭ জন।
এই সময়ের মধ্যে (১৫ মার্চ-৪ মে) সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৮,৮৪২ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৫,১৫১ জন।
মৃত্যুর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে ২ জন। আর ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মোট মৃত্যু হয়েছে ৫২ জনের।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫৯ জনে।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে সহজেই অন্যরা সংক্রমিত হতে পারে। শুরুতে জ্বর, সর্দি, কাশি ও চোখ লাল হওয়া-এসব উপসর্গ দেখা দেয়। সাধারণত ৩-৪ দিন পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা র্যাশ ওঠে, যা হামের প্রধান লক্ষণ।
বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচির কারণে দীর্ঘদিন ধরেই হাম নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে টিকাদানে ঘাটতির কারণে সংক্রমণ আবারও বেড়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষের টিকা নিশ্চিত হলে সংক্রমণ ছড়ানো রোধ করা সম্ভব। কিন্তু দেশে গত দেড় থেকে দুই বছরে এই হার কমে প্রায় ৫৭ শতাংশে নেমে এসেছে।
হামের টিকা দুই ধাপে দেওয়া হয়- প্রথম ডোজ ৯ মাসে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাসে। কিন্তু অনেক শিশু দ্বিতীয় ডোজ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তারা পূর্ণ সুরক্ষা পাচ্ছে না।
তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রথম ডোজের কভারেজ প্রায় ৮৬ শতাংশ হলেও দ্বিতীয় ডোজের ক্ষেত্রে তা ৭৪-৭৫ শতাংশে নেমে আসে। দেশে দুই ডোজ মিলিয়ে গড় হার আরও কম।
জানা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের বড় অংশের বয়স ৬ মাস থেকে এক বছরের মধ্যে। এ কারণে সরকার সম্প্রতি প্রথম ডোজের সময়সীমা কমিয়ে ৬ মাস নির্ধারণ করেছে। সেই অনুযায়ী সারাদেশে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
