তামিলনাড়ু বিধানসভা
বহিরাগত বিজয় কীভাবে ভোটারদের মন জয় করলেন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ০২:২৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
তামিলনাড়ুতে হয়তো দেখা যাচ্ছে গত পাঁচ দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান। এটি কোনো পুরোনো দলের ভাঙন বা পুনর্গঠন নয়, বরং দ্রাবিড় রাজনীতির কাঠামোতেই এক ধরনের বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
এর আগে এমন পরিবর্তন ঘটেছিল এমজি রামচন্দ্রনের সময় যখন তিনি ডিএমকে ছেড়ে সিনেমার জনপ্রিয়তাকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করেছিলেন। তার আগেই সিএন আন্নাদুরাই ও ডিএমকে সিনেমাকে রাজনীতির ভাষা বানিয়ে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগের শক্তিশালী মাধ্যম তৈরি করেছিলেন।
এবার সেই ব্যবস্থার ভেতরে না থেকেও অভিনেতা বিজয় থালাপাতি সরাসরি রাজনীতির মাঠে নেমেছেন। আর সেখানেই তৈরি হয়েছে ভিন্নতা।
বিশ্লেষকরা বলছে, কেরালার মতো সরাসরি সরকারবিরোধী ঢেউ নয়, বরং তামিলনাড়ুতে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘদিনের পরিচিত রাজনৈতিক কাঠামোর প্রতি এক ধরনের নীরব ক্লান্তি। পাশাপাশি শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষের প্রতি জনগণের মধ্যে কিছুটা অবিশ্বাস ও বিরক্তিও তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতেই বিজয়ের দল টিভিকে অনেক ভোটারের আবেগ ও প্রত্যাশা ধরতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত নয় তবে তার দল বিভিন্ন অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখাচ্ছে, যা পুরো প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেহারা বদলে দিয়েছে।
আরো পড়ুন : তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে অভিনেতা বিজয়ের উত্থান
তামিলনাড়ুতে আগে থেকেই চলচ্চিত্র তারকারা রাজনীতিতে এসেছেন। আন্নাদুরাই ও করুণানিধি সিনেমাকে রাজনৈতিক ভাষা বানিয়েছিলেন, এমজিআর সেই জনপ্রিয়তাকে দলীয় শক্তিতে পরিণত করেছিলেন। জয়ললিতা সেই কাঠামোকে আরো শক্তিশালী করেছিলেন। কিন্তু বিজয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা, তিনি কোনো দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই সরাসরি জনতার আবেগের মাধ্যমে রাজনীতিতে এসেছেন।
এই লড়াইয়ে তরুণ ও নারী ভোটারদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হচ্ছে। শহর ও আধাশহর অঞ্চলে অনেক নারী ভোটার তাকে নতুন বিকল্প হিসেবে দেখছেন। তরুণ ভোটারদের কাছে তিনি নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি, তিনি আগের প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের থেকে আলাদা।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা ডিএমকে নিয়ে কিছু অংশের মধ্যে রাজনৈতিক ক্লান্তি দেখা যাচ্ছে বলে সমালোচকরা বলছেন। ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়া, নেতৃত্বের উত্তরসূরি নিয়ে প্রশ্ন এবং কিছু বিতর্কিত মন্তব্য ভোটারদের এক অংশকে নতুন বিকল্প খুঁজতে উৎসাহিত করেছে।
চেন্নাই শহরেও এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। যেখানে আগে ডিএমকে ও এআইএডিএমকে শক্ত অবস্থানে ছিল সেখানে এবার টিভিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এসেছে এবং কিছু জায়গায় এগিয়েও আছে বলে প্রাথমিক প্রবণতা বলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমজিআরের সঙ্গে বিজয়ের তুলনা পুরোপুরি মিলছে না। এমজিআরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সংগঠন ছিল, কিন্তু বিজয়ের ক্ষেত্রে বড় শক্তি হলো তার সরাসরি জনসংযোগ এবং সিনেমার মাধ্যমে তৈরি হওয়া আবেগিক সম্পর্ক।
সব মিলিয়ে, তামিলনাড়ুতে এই নির্বাচন শুধু একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং রাজনৈতিক বিশ্বাস ও জনসমর্থনের পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই নতুন ঢেউ শেষ পর্যন্ত কতদূর যেতে পারে।
