তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে অভিনেতা বিজয়ের উত্থান
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ১২:১১ পিএম
অভিনেতা বিজয় থালাপাতি। ছবি : সংগৃহীত
তামিলনাড়ু এমন একটি রাজ্য যেখানে রাজনীতিবিদ ও চলচ্চিত্র তারকাদের সমানভাবে জনপ্রিয়তা ও সম্মান দেওয়া হয়। চলচ্চিত্র তারকাদের রাজনীতিতে সফল হওয়ার দীর্ঘ ইতিহাস এখানে রয়েছে। ডিএমকে থেকে বের হয়ে আসা এমজি রামচন্দ্রন (এমজিআর) এবং তাঁর অনুসারী জে জয়ললিতা—দুজনই চলচ্চিত্র জগতের তারকা থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন।
ডিএমকে প্রতিষ্ঠাতা সিএন আন্নাদুরাই ছিলেন প্রখ্যাত চিত্রনাট্যকার, আর এম করুণানিধি ছিলেন কবি ও চিত্রনাট্যকার, যাঁরা রাজনৈতিকভাবেও ব্যাপক সফলতা অর্জন করেন।
এই ধারাবাহিকতায় নতুন সংযোজন অভিনেতা বিজয়। তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ভোট গণনা চলাকালে তিনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের চমকে দিয়ে এগিয়ে আছেন। কয়েক দিন আগেও বেশিরভাগ এক্সিট পোল ক্ষমতাসীন ডিএমকের জয় পূর্বাভাস দিলেও অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া ‘বিজয় এফেক্ট’ এর কথা তুলে ধরে জানায়, বিজয়ের দল তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) ১২০টি পর্যন্ত আসন পেতে পারে এবং বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। যদিও এক্সিট পোল সব সময় নির্ভুল হয় না।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিজয় তাঁর দল টিভিকে গঠনের ঘোষণা দিয়ে ২০২৬ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, রাজনীতি তাঁর কাছে শুধু পেশা নয়, এটি মানুষের সেবা। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, তাঁর সিনেমা ‘থালাপাথি ৬৯’ (পরবর্তীতে ‘জন নায়কন’) হবে তাঁর শেষ চলচ্চিত্র।
৫১ বছর বয়সী এই অভিনেতা পেরাম্বুর ও তিরুচি পূর্ব আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর দলের দাবি, তারা নীতিভিত্তিক ও জনকেন্দ্রিক রাজনীতি করতে চায়- “জনগণের জন্য, জনগণের সঙ্গে, জনগণের একজন হয়ে।”
আরো পড়ুন : তামিলনাড়ু ভোটে চমক, এগিয়ে বিজয় থালাপাতি
বিজয়ের রাজনৈতিক যাত্রা হঠাৎ করে শুরু হয়নি। ২০০৯ সালে তাঁর ভক্তদের সংগঠন ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’ (ভিএমআই) একটি সামাজিক সংগঠন হিসেবে যাত্রা শুরু করে, পরে তা ধীরে ধীরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়। ২০১১ সালের নির্বাচনে এআইএডিএমকে জোটকে সমর্থনের মাধ্যমে তারা রাজনীতিতে প্রবেশ করে। ২০২০ সালে এ সংগঠনকে রাজনৈতিক দলে রূপ দেওয়ার চেষ্টা হলেও তা আইনি জটিলতায় বিলুপ্ত হয়। তবে পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংগঠনটির প্রার্থীরা ভালো ফল করে।
সমালোচকদের মতে, বিজয়ের চলচ্চিত্র জীবনই তাঁর রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি করেছে। তাঁর সিনেমাগুলোতে সামাজিক ন্যায়বিচার, দুর্নীতি ও জনগণের অধিকার নিয়ে বারবার কথা বলা হয়েছে, যা তাঁকে তরুণদের কাছে জনপ্রিয় করে তোলে। তবে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রায় বিতর্কও রয়েছে। কারুরে একটি সমাবেশে পদদলিত হয়ে ৪১ জনের মৃত্যুর ঘটনা তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এ ছাড়া ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সমালোচনা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিজয়ের বড় সমর্থন রয়েছে, যারা ডিএমকে ও এআইএডিএমকের ওপর আস্থা হারাচ্ছে। বিজয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি বিজেপি বা ডিএমকে কোনো দলের সঙ্গেই জোট করবেন না।
তাঁর দলের নির্বাচনী ইশতেহারে তরুণ, নারী ও জেলেদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এতে রয়েছে মাছ ধরার সময় সহায়তা, ভর্তুকি, শিক্ষা ঋণ, নারীদের আর্থিক সহায়তা ও বিনামূল্যে এলপিজি সুবিধা।
চলচ্চিত্র জগতের শীর্ষ সময়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করে বিজয় এমজিআর বা আন্নাদুরাইয়ের মতো সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে চান। তাঁর দলের প্রতীক ‘হুইসেল’কে সামনে রেখে তিনি এক ধরনের ‘হুইসেল বিপ্লব’ এর ডাক দিয়েছেন। সব মিলিয়ে, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বিজয়ের উত্থান নতুন এক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যার চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করছে ভোট গণনার শেষ ফলের ওপর।
