বিজয় থালাপাতির যুগান্তকারী 'প্রথমদের ক্যাবিনেট' কেমন হতে পারে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম
বিজয় থালাপাতি। ছবি : সংগৃহীত
২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন এমন এক রায় দিয়েছে যা কার্যত পাঁচ দশকের পুরোনো দ্বিদলীয় শাসনব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়েছে। বিজয় অতীত রাজনৈতিক কাঠামোকে বদলে দিয়ে এক নতুন যুগের সূচনা করেছেন। তবে এই নতুন যুগ রাজ্যের জন্য কী নিয়ে আসছে, তা নিয়েই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছালেও বিজয় ও তাঁর দল তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) সামান্য পিছিয়ে রয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৭ আসনের বিপরীতে দলটি পেয়েছে ১০৮টি আসন। ফলে সরকার গঠনে এখন ছোট দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
তামিলনাড়ুর ইতিহাসে মাত্র দুবার ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। একবার ১৯৫২ সালে, যখন কংগ্রেসের সি রাজাগোপালাচারী স্বতন্ত্রদের সমর্থনে সরকার চালান এবং পরে ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত যখন এম করুণানিধি কংগ্রেসের বাইরের সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার পরিচালনা করেন।
বিজয়ের সামনে দুই বিকল্প
বিজয়ের সামনে এখন দুটি পথ খোলা—একটি হলো জোট সরকার গঠন করে প্রথম প্রকৃত ক্ষমতা ভাগাভাগির মডেল তৈরি করা, আর অন্যটি হলো কয়েকটি দলের বাইরের সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার গঠন করা। দ্বিতীয় বিকল্পটি রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, তবে প্রথমটি তাঁর অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করতে পারে।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিজয় নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তিনি ক্ষমতা ভাগাভাগিতে আগ্রহী। তাই বিশ্লেষকদের ধারণা, তামিলনাড়ুতে এবার একটি জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনাই বেশি।
এই পরিবর্তন অতীতের “বিজয়ীই সব পাবে” রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে একটি বড় বিচ্যুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজয়কে এখন কূটনৈতিক দক্ষতা দেখাতে হবে কারণ তিনি ভিসিকে (২), বাম দল (৪), কংগ্রেস (৫) এবং আইইউএমএল (২)-এর মতো ছোট দলগুলোকে টিভিকের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করবেন। চার বিধায়কসহ পিএমকে-কে জোটে আনা তুলনামূলক সহজ হতে পারে, তবে বিজয়ের বড় দলিত ভোটব্যাংকের কারণে এই জোট কিছু রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে, এআইএডিএমকেও বিজয়কে সমর্থনের কথা বিবেচনা করতে পারে। তারা যদি কনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে রাজি হয়, তাহলে তা বিজয়ের জন্য বড় সাফল্য হবে। এতে তিনি বিধানসভায় শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করতে পারবেন এবং দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক সমীকরণে প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হবেন।
আরো পড়ুন : নিজেদের দুর্গেই পতন, এটাই কি শেষ মমতা-স্তালিনের?
সাধারণ ন্যূনতম কর্মসূচির পরিকল্পনা
সরকার গঠনের পর বিজয়ের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে শাসন কাঠামো তৈরি করা। মন্ত্রিসভা গঠন হবে এক সূক্ষ্ম ভারসাম্যের কাজ, যেখানে সামাজিক সমীকরণ ও রাজনৈতিক বাস্তবতা দুটোই বিবেচনায় রাখতে হবে।
প্রত্যাশা করা হচ্ছে, সরকার একটি “সাধারণ ন্যূনতম কর্মসূচি” গ্রহণ করবে, যেখানে উন্নয়নকে পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির ওপর প্রাধান্য দেওয়া হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের অভিজ্ঞ বিধায়করা নতুন এই ক্ষমতার কেন্দ্রের দিকে আকৃষ্ট হতে পারেন। তবে এটি নির্ভর করবে বিজয়ের প্রশাসনিক দক্ষতার ওপর এবং তিনি কতটা স্থিতিশীল সরকার উপহার দিতে পারেন তার ওপর।
নতুন ধরনের মন্ত্রিসভার ইঙ্গিত
বিজয়ের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামো থেকে ভিন্ন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখানে পুরোনো পৃষ্ঠপোষকতার পরিবর্তে প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রতিনিধিত্বমূলক কাঠামোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। এমনকি মন্ত্রিসভা হবে তুলনামূলকভাবে তরুণ, বৈচিত্র্যময় এবং পেশাদার। দলিত, নারী এবং সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কেএ সেনগোত্তাইয়ান এবং জেসিডি প্রভাকরের মতো অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বরা প্রশাসনিক ভারসাম্য আনতে পারেন। অন্যদিকে আধব অর্জুন, কেজি অরুণরাজ এবং সিটিআর নির্মল কুমারের মতো তরুণ নেতৃত্ব কৌশলগত দিক থেকে নতুন চিন্তাধারার প্রতিনিধিত্ব করবেন। সব মিলিয়ে, এই প্রশাসন হবে বিজয়ের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা—যেখানে একজন চলচ্চিত্র তারকা থেকে উঠে আসা নেতা একটি জটিল জোট সরকার পরিচালনা করতে সক্ষম হন কি না, সেটিই হবে মূল প্রশ্ন।
সূত্র: এনডিটিভি।
