আরাঘচি-জয়শঙ্কর ফোনালাপ
শোক-সমবেদনায় ইরানের পাশে ভারত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৭:০২ পিএম
ছবি: আনন্দবাজার অনলাইনের সৌজন্যে
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পাঁচ দিনের মাথায় এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ভারতীয় বন্দর ব্যবহারের অনুমতি না দেয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তেহরানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলল ভারত।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। একই দিন নয়াদিল্লিতে ইরানের দূতাবাসেও গিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রী। খবর দিয়েছে আনন্দবাজার।
এই কদিন পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করলেও, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। খামেনির মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করতেও শোনা যায়নি ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কাউকে। অবশেষে পাঁচ দিন পেরিয়ে যাবার পর বৃহস্পতিবার একই সাথে সেই যোগাযোগ আর শোক প্রকাশের দায়িত্ব সারলো ভারত।
বৃহস্পতিবার বিকেলে জয়শঙ্কর ফোনে আরাঘচির সঙ্গে কথা বলার পর তা সামাজিক মাধ্যমেও জানিয়েছেন। সেখানে তাদের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে তা খোলসা না করলেও, আকারে-ইঙ্গিতে ইরানের পাশে থাকার কথা বুঝিয়েও দিয়েছেন।
আরাঘচি-জয়শঙ্কর ফোনালাপের পরপরই নয়াদিল্লিতে ইরানের দূতাবাসে যান ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রী। সেখানে তিনি ভারতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেন এবং খামেনির মৃত্যুতে ভারত সরকারের পক্ষে শোক প্রকাশ শোকপত্রে স্বাক্ষরও করেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রতিরক্ষা সচিবের উপদেষ্টা ডগলাস ম্যাকগ্রেগর একটি টেলিভিশন চ্যানেলে ‘মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলো ভারতীয় বন্দর ব্যবহার করতে পারে’ বলে যে দাবি করেছিলেন, কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে বলে, ‘ভারতীয় বন্দরগুলো মার্কিন নৌবাহিনী ব্যবহার করছে বলে যে দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বানোয়াট। এ ধরনের ভিত্তিহীন মন্তব্যের বিষয়ে আমরা সবাইকে সতর্ক করছি।’
ইরান-ইসরায়েল চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ভারতের অবস্থান নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার মধ্যে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বিবৃতি, আর তার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তেহরানের সঙ্গে দিল্লির সরাসরি যোগাযোগ আবারও ভূরাজণৈতিক সমীকরণে ‘রাশিয়ান বেল্টের’ সঙ্গে ভারতের চিরচেনা সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বলেই মনে করেন রাষ্ট্রচিন্তাবিদেরা।
