উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্য শেষের পথে?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত আরব দেশগুলোর উদ্দেশ্যে এক্সে একটি বার্তা পোস্ট করার পর, বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে ইরানী নেতার এই বার্তাই বলে দিচ্ছে- এই অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্যের যুগ শেষ হবার পথে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন বাহরাইনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মধ্যপ্রাচ্য নীতি বিষয়ক সিনিয়র ফেলো হাসান আল হাসান।
তিনি বলেন, খামেনির এই বার্তা মূলত উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতি একটি কৌশলগত ইঙ্গিত, যেখানে তারা বোঝাতে চাচ্ছে যে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসছে।
খামেনির ওই পোস্টে বলা হয়, ‘ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রতিবেশীদের বলছি, আপনারা এক অলৌকিক ঘটনা দেখছেন।’
আরও বলা হয়, তাই বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করুন, পরিস্থিতি সঠিকভাবে অনুধাবন করুন, সঠিক পক্ষে অবস্থান নিন এবং ‘শয়তানদের’ মিথ্যা প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে সতর্ক থাকুন।
ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত চাপের মুখেও তেহরানের টিকে থাকাকেই এখানে 'অলৌকিক' হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
আলহাসান বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একের পর এক হামলা সামলে নিয়ে ইরান এখন নিজেকে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে দেখতে পাচ্ছে।
তিনি সিএনএনকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আক্রমণ প্রতিহত করা, ওয়াশিংটনকে যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য করা এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করার পর তেহরান এখন আত্মবিশ্বাসী যে তারা এই অঞ্চলে আরও প্রভাবশালী ও নিয়ন্ত্রণমূলক ভূমিকা পালন করতে পারবে।’
খামেনি তার বার্তায় উল্লেখ করেন, ইরান তার প্রতিবেশীদের কাছ থেকে এখন একটি 'যথাযথ সাড়া' পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, যাতে তারা তাদের ‘ভ্রাতৃত্ব এবং সদিচ্ছা’ প্রদর্শন করতে পারে।
তিনি লিখেছেন, এটি ততক্ষণ পর্যন্ত সম্ভব হবে না, যতক্ষণ না আপনারা সেই সব ‘অহংকারী শক্তিগুলোকে’ বর্জন করছেন, যারা আপনাদের অপমান এবং শোষণ করার কোনো সুযোগই হাতছাড়া করে না।
তবে আল হাসান মনে করেন, সংঘাত চলাকালে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া উপসাগরীয় দেশগুলো খামেনির এই আহ্বানকে যথেষ্ট সন্দেহের চোখেই দেখবে।
আল হাসান আরও বলেন, ‘যুদ্ধের চরম মুহূর্তেও আরব উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছিল। ফলে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি থাকুক বা না থাকুক, তারা ইরানের খবরদারি বা অভিভাবকত্ব মেনে নেবে এমন সম্ভাবনা খুবই কম।’
