লোহিত সাগরও বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম
এবার লোহিত সাগর বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের। ছবি- সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের জেরে এবার লোহিত সাগর দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। হরমুজ প্রণালিতে আগে থেকেই নিয়ন্ত্রণ আরোপের পর দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মার্কিন নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের পাশাপাশি লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথটিও তারা অবরুদ্ধ করে দেবে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে দেশটির সামরিক কমান্ড এই কঠোর বার্তা দেয়।
বিবৃতিতে ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারের প্রধান আলী আবদুল্লাহি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি অবরোধ জারি রেখে ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, তবে তা বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির চরম লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,'ইসলামী প্রজাতন্ত্রের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর কিংবা লোহিত সাগর—কোথাও কোনো ধরনের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলতে দেবে না।'
গত সোমবার থেকে হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচলের ওপর ওয়াশিংটন কঠোর অবরোধ আরোপ করার পর তেহরানের পক্ষ থেকে এই পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা এল। যদিও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, ইরানের বন্দরে যাচ্ছে না এমন কোনো জাহাজের পথ তারা আটকাবে না, তবে তেহরান একে সরাসরি উসকানি হিসেবে দেখছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বহু প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। সোমবার বাজার খোলার পরপরই ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম এক লাফে ৭.৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০২.৩৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুড অয়েলের মূল্য ৮.৩ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ১০৪.৫৬ ডলারে। দীর্ঘ সময় পর অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ১০০ ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশে পড়তে শুরু করেছে। আয়ারল্যান্ডে জ্বালানির দাম বাড়ার প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভ শুরু হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি বৈঠকে বসে দেশটির মন্ত্রিসভা। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কমাতে পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর ধার্য করা কর কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইরিশ সরকার।
