ভিসা নিয়ে যাদেরকে দুঃসংবাদ দিলো যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩০ এএম
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ছবি- সংগৃহীত
ওয়াশিংটনের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে প্রতিপক্ষ শক্তিগুলোকে সরাসরি সহায়তা করার অভিযোগে ২৬ ব্যক্তির ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, নতুন এই ভিসা নীতির আওতায় এমন ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে যারা সচেতনভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ শক্তিকে কৌশলগত সম্পদ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করছে কিংবা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মার্কিন অর্থনৈতিক স্বার্থকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। ইতোমধ্যে ২৬ জন ব্যক্তির ভিসা বাতিল করে এই নীতির কঠোর বাস্তবায়ন শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে ‘ডনরো ডকট্রিন’ (Donroe Doctrine) নামে একটি নতুন নীতি বাস্তবায়নে কাজ করছেন। ১৯শ শতকের ঐতিহাসিক ‘মনরো ডকট্রিন’-এর অনুকরণে তৈরি এই নীতির মূল লক্ষ্য হলো পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র প্রভাব বজায় রাখা। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা এবং মাদক পাচার বন্ধে ওয়াশিংটন এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে নির্দিষ্ট করে চীন কিংবা কোনো মাদক পাচার চক্রের নাম উল্লেখ না করা হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি সমালোচক ও রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে ভিসা বাতিলের এই প্রবণতা দৃশ্যমান। এর আগে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারী এবং ইরান সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা বেশ কয়েকজনের অভিবাসন ভিসা বাতিল করা হয়েছিল।
লাতিন আমেরিকার প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও এই কঠোর নীতির বাইরে নেই। গত জুলাইয়ে ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে মামলায় জড়িত কর্মকর্তাদের ভিসা বাতিল করা হয়। এছাড়া গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার জেরে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর ভিসাও বাতিল করেছিল ওয়াশিংটন। তবে পরবর্তীতে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে তাকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
