আমিরাত বন্দরে আগুনের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করল ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে ইরান। মঙ্গলবার (৫ মে) দেশটির এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবৈধভাবে জাহাজ চলাচলের পথ তৈরি করতে গিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘দুঃসাহসিকতার’ ফল বলে দাবি করেছে ইরান। মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আইআরআইবি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, ওই স্থাপনায় হামলার কোনো পূর্বপরিকল্পিত কর্মসূচি তেহরানের ছিল না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন,'মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালির সংরক্ষিত জলপথ দিয়ে অবৈধভাবে জাহাজ চলাচলের পথ তৈরি করতে গিয়ে এই অঘটন ঘটিয়েছে।'
ইরানের এই কর্মকর্তা আরও জানান, এই সংবেদনশীল অঞ্চলে সামরিক দুঃসাহসিকতা এবং শক্তি প্রয়োগের প্রথা বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রকে বাধ্য করতে হবে। একই সঙ্গে এমন কর্মকাণ্ডের জন্য মার্কিন বাহিনীকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে নৌ-নিরাপত্তা ও জ্বালানি পরিবহনকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
গালিবাফ আরও উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালিতে বর্তমানে একটি ‘নতুন সমীকরণ’ তৈরি হচ্ছে। তার মতে,'যুক্তরাষ্ট্রের এই অপকর্ম অবশ্যই প্রশমিত হবে। বর্তমান পরিস্থিতির ধারাবাহিকতা ওয়াশিংটনের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠবে, অথচ ইরান এখনও পাল্টা ব্যবস্থা শুরুই করেনি।'
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত চরম আকার ধারণ করে। এর জবাবে ইরান টানা কয়েক সপ্তাহ মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থানে শতধিক হামলা চালায় এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে নির্দিষ্ট শর্তে এই জলপথে জাহাজ চলাচলের নিয়ম জারি রেখেছে তেহরান।
