আদানির বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, নেপথ্যে ১০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ০১:১৬ পিএম
ফাইল ছবি
মার্কিন বিচার বিভাগ ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগে আনা ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। আদানি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার আদানি একই সঙ্গে মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের দায়ের করা একটি সংশ্লিষ্ট দেওয়ানি জালিয়াতি মামলাও নিষ্পত্তি করেছেন। ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে ওই মামলা হয়েছিল। তবে এ নিষ্পত্তি কার্যকর হতে আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
ফৌজদারি অভিযোগ প্রত্যাহারের সম্ভাবনার পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। সূত্রগুলোর একটির ভাষ্য, আদানির আইনজীবী রবার্ট জিউফ্রা- যিনি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবীও- গত মাসে বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে উপস্থাপনায় বলেন, মামলা চলতে থাকলে আদানির পক্ষে ওই ১০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ের পর আদানি প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এবং ১৫ হাজার কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা সূত্রটি জানায়, জিউফ্রা তাঁর ১০০ পৃষ্ঠার উপস্থাপনার বেশির ভাগ অংশজুড়ে যুক্তি দেন যে- মামলাটি দুর্বল। কারণ, এতে যথাযথ বিচারিক এখতিয়ার নেই এবং পর্যাপ্ত প্রমাণও উপস্থাপন করা হয়নি। গত মাসে মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের মামলার আদালতের নথিতেও তিনি একই ধরনের যুক্তি তুলে ধরেন।
একটি সূত্র বলেছে, কয়েকজন প্রসিকিউটর স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন যে ১০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ মামলার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। তবে অন্য কেউ ভিন্নভাবে বিষয়টি দেখেছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেয়নি।
এর আগে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানায়, বিচার বিভাগ আদানির মামলা প্রত্যাহারের কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ব্রুকলিনের ফেডারেল প্রসিকিউটররা আদানির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন। অভিযোগে বলা হয়, ভারতের বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের অনুমোদন পেতে ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের প্রায় ২৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঘুষ দিতে সম্মত হয়েছিলেন তিনি।
প্রসিকিউটরদের দাবি, আদানি ও তাঁর কথিত সহযোগীরা ঋণদাতা ও বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে দুর্নীতির তথ্য গোপন রেখে তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ ও বন্ড সংগ্রহ করেছিলেন। তবে আদানি গ্রুপ এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের দেওয়ানি জালিয়াতি মামলাটিও বৃহস্পতিবার নিষ্পত্তি হয়েছে বলে আদালতের নথিতে দেখা গেছে। ওই মামলায় গৌতম আদানির ভাতিজা সাগর আদানিও অভিযুক্ত ছিলেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, গৌতম আদানি ও তাঁর ভাতিজা ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার দেওয়ানি জরিমানা দিতে সম্মত হয়েছেন। তবে তাঁরা কেউই কোনো ধরনের অপরাধ স্বীকার বা অস্বীকার করবেন না।
আদানি গ্রিন এনার্জি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আদানি ও তাঁর ভাতিজা এবং মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন নিউইয়র্কের একটি আদালতে চূড়ান্ত রায়ের আবেদন জমা দিয়েছেন। এখন আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা চলছে। গত মাসে আদানিদের আইনজীবীরা বলেন, মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন যে ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলেছে, সেটিকে সমর্থন করার মতো বিশ্বাসযোগ্য কোনো প্রমাণ নেই। তাঁদের দাবি, বন্ড ইস্যুর প্রক্রিয়ায় আদানিদের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল না। পাশাপাশি প্রতারণার উদ্দেশ্য বা অবহেলার কোনো প্রমাণও নেই। এসব কারণেই মামলাটি খারিজ হওয়া উচিত।
প্রসঙ্গত, ৬৩ বছর বয়সী গৌতম আদানির সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে ৮২ বিলিয়ন ডলার। ফোর্বসের তথ্যমতে, তিনি বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি।
