ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতে দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকার পর অবশেষে পেট্রোল, ডিজেল ও সিএনজির দাম বাড়ানো হয়েছে। শুক্রবার দেশটির সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৩ রুপি এবং সিএনজির দাম কেজিপ্রতি ২ রুপি বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং রুপির অবমূল্যায়নের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজধানী দিল্লিতে পেট্রোলের দাম বেড়ে হয়েছে লিটারপ্রতি ৯৭ রুপি ৭৭ পয়সা, যা আগে ছিল ৯৪ রুপি ৭৭ পয়সা। একইভাবে ডিজেলের দাম ৮৭ রুপি ৬৭ পয়সা থেকে বেড়ে ৯০ রুপি ৬৭ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
তেল শিল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মুম্বাইয়ে পেট্রোলের দাম এখন ১০৬ রুপি ৬৮ পয়সা, চেন্নাইয়ে ১০৩ রুপি ৬৭ পয়সা। ডিজেলের ক্ষেত্রে মুম্বাইয়ে ৯৩ রুপি ১৪ পয়সা, কলকাতায় ৯৫ রুপি ১৩ পয়সা এবং চেন্নাইয়ে ৯৫ রুপি ২৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভারত সরকার ২০২২ সালের এপ্রিলের পর থেকে জ্বালানির দাম বাড়ানো এড়িয়ে চলছিল। বরং ২০২৪ সালের মার্চে লোকসভা নির্বাচনের আগে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ২ রুপি কমানো হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে সেই স্থিতিশীলতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে ভারত গড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৬৯ ডলারে অপরিশোধিত তেল আমদানি করলেও পরবর্তী সময়ে তা বেড়ে ১১৩ থেকে ১১৪ ডলারে পৌঁছায়। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে এটি ভারতের জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত অপরিশোধিত তেল আমদানিতে প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। এর পাশাপাশি ইলেকট্রনিক পণ্য ও স্বর্ণ আমদানিতেও বড় অঙ্কের ব্যয় হচ্ছে।
বর্তমানে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৬৯ হাজার কোটি ডলার। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় এই রিজার্ভ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের ধারণা, উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে রুপি এখন এশিয়ার দুর্বল মুদ্রাগুলোর মধ্যে একটি। এতে আমদানি ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।
