রোমানিয়ায় রুশ ড্রোন বিধ্বস্ত, ন্যাটো জোটের প্রতিক্রিয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
ইউক্রেনকে লক্ষ্য করে চালানো রাশিয়ার রাতভর হামলায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ন্যাটো সীমান্তে। রুশ একটি ড্রোন আকাশসীমা লঙ্ঘন করে রোমানিয়ার পূর্বাঞ্চলের গালাতি শহরের একটি আবাসিক ভবনের ছাদে বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সামরিক জোট ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে এমন অনুপ্রবেশের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রোমানিয়া ও তার পশ্চিমা মিত্ররা।
আজ শুক্রবার (২৯ মে) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বুখারেস্টের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
রোমানিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রোনটি আকাশসীমায় প্রবেশের পরপরই রাডারে শনাক্ত করা হয়। আবাসিক ভবনে আছড়ে পড়ার পর সেখানে আগুন ধরে গেলে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিকভাবে দুটি যুদ্ধবিমান ও একটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য জারি করা হয় জরুরি সতর্কতা।
ঘটনার পর রোমানিয়ায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ানা তোইউ বলেছেন, রাশিয়ার এমন দায়িত্বহীন আচরণের কূটনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুসর ড্যান সাফ জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব রোমানিয়ার জনগণের ওপর পড়তে দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে, দেশের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ইলি বোলিয়ান দ্রুত ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নতুন চুক্তি করার কথা জানিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে রোমানিয়া ছাড়াও এস্তোনিয়া, লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও ফিনল্যান্ড তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। এর মধ্যে লাটভিয়ায় ড্রোন অনুপ্রবেশের জেরে সরকার পতনের ঘটনাও ঘটেছে।
ফ্রান্সের ইউরোপবিষয়ক মন্ত্রী বেনজামিন হাদ্দাদ বলেন, এই ঘটনাটি ইউরোপীয় নিরাপত্তার জন্য রাশিয়ার হুমকিকে স্পষ্ট করে। বর্তমানে রোমানিয়ায় ফরাসি সেনারা মোতায়েন রয়েছে বলেও জানান তিনি। পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কি রয়টার্সকে বলেন, ‘এটি ইচ্ছাকৃত হোক বা অদক্ষতা, রাশিয়া এখনও বিপজ্জনক। আমাদের অবশ্যই আত্মরক্ষা করতে হবে।’
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন মন্তব্য করেছেন, রাশিয়ার আগ্রাসন আরও একটি সীমা অতিক্রম করেছে। ন্যাটোর একজন মুখপাত্রও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাশিয়ার এই বেপরোয়া আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা রাশিয়াকে কৃষ্ণ সাগর অঞ্চল ও বৃহত্তর ইউরোপের জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। রোমানিয়ার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করা কেবল তাদের নিজেদের জন্যই নয়, প্রতিবেশীদের ঝুঁকি কমানোর জন্যও জরুরি।
ইউরোপে রাশিয়ার ড্রোন বিধ্বস্তের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি সতর্ক করে বলেন, ক্রমবর্ধমান এই হামলাগুলো যেকোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে, যার পরিণতি হবে অজানা ও অপ্রত্যাশিত।
