যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১০:২০ এএম
ছবি- সংগৃহীত
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক বাহিনীর মধ্যে রাতভর দফায় দফায় হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে এই অঞ্চলে চলমান সংঘাতের মাত্রা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
রাতভর উত্তেজনার মধ্যে ইরান দাবি করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯’ ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এর আগে ও মার্কিন বাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার জবাবে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ও রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় ওয়াশিংটন।
আজ বুধবার (১০ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা ও তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সির পৃথক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ বুধবার ভোরে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে তারা দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহর প্রদেশের আকাশে অনুপ্রবেশকারী মার্কিন ওই ড্রোনটি ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়। এর পাশাপাশি বাহরাইনে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর দাবিও করেছে তেহরান।
আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ ইরানের জাস্ক, সিরিক ও কেশম এলাকায় রাতভর মার্কিন বিমান হামলার জবাবে তারা এই পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন হামলায় সিরিকে একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শহরের বামানি এলাকায় দুটি পানির ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে। এই ক্ষয়ক্ষতির বদলা নিতেই স্থানীয় সময় রাত আড়াইটায় আইআরজিসির নৌবাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায়।
বিবৃতিতে আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, ‘দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ এখনও চলমান রয়েছে’। একই সঙ্গে তারা ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেছে, ইরানের ওপর মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকলে সামনে আরও ‘কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে।
এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের রাডার স্টেশনগুলোতে হামলা সম্পন্ন করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। তবে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানে চালানো সর্বশেষ এই হামলাকে ‘আত্মরক্ষামূলক’ বলে দাবি করা হয়েছে।
সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার জবাবেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর প্রতিশোধ নিতে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ওড়ার পর ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা বর্ষণ করে।
