পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক তোলপাড়, দল ছাড়লেন মমতার রাজ্য সভাপতি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেসে ফের বড় ধাক্কা খেলেন দলীয় প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শনিবার (৪ জুলাই) দলের সব পদ থেকে আকস্মিক পদত্যাগ করেছেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর, গত ৩ জুন দলীয় সাংগঠনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব কমিটি ভেঙে দেন। এরপর সুব্রত বক্সির স্থলাভিষিক্ত হয়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব পান।
পদত্যাগপত্রে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য লিখেছেন, ‘৩ জুন তাকে দেওয়া রাজ্য সভাপতির পদ থেকে তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন। একই সঙ্গে বর্তমানে দলের যেসব দায়িত্বে রয়েছেন, সেসব পদ থেকেও পদত্যাগ করছেন।’
তিনি আরো জানান, ‘তৃণমূল কংগ্রেস ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী হিসেবে নিজের দায়িত্ব প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।’
তবে পদত্যাগপত্রের শেষাংশে তিনি উল্লেখ করেন, ‘মমতা ব্যানার্জীর প্রতি তার সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা সবসময় অটুট থাকবে।’
পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এদিকে, মমতা ব্যানার্জীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তৃণমূল বিধায়ক কুনাল ঘোষ চন্দ্রিমার পদত্যাগের সমালোচনা করে বলেন, মমতা ব্যানার্জী যখন তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও মন্ত্রিত্ব দিয়েছিলেন, তখন কেন তিনি পদত্যাগ করেননি?
একসময় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী থাকা চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে দীর্ঘদিন ধরেই মমতা ব্যানার্জীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসে বড় ধরনের ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। দলের একাংশের বিদ্রোহী নেতারা আলাদা গোষ্ঠী গঠন করেছেন। একই সঙ্গে কয়েকজন সাংসদও বিদ্রোহ ঘোষণা করে এনডিএকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পদত্যাগের একদিন আগে কলকাতার তৃণমূল ভবনকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
শুক্রবার বিদ্রোহী গোষ্ঠী দলীয় সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করে ভবনের তালা পরিবর্তন করে এবং অরুপ রায়কে চেয়ারম্যান উল্লেখ করে নতুন সাইনবোর্ড টাঙায়। তারা নিজেদেরই নির্বাচন কমিশনের কাছে আসল তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানায়।
এর জবাবে মমতা ব্যানার্জীর অনুগত নেতারাও তৃণমূল ভবনে পৌঁছে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী ও কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়।
