×

আন্তর্জাতিক

জন্মভূমির মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন খামেনি

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম

জন্মভূমির মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন খামেনি

ছবি : সংগৃহীত

ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোক আয়োজন শেষে সমাহিত করা হয়েছে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে ইরানের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদ শহরে ইমাম রেজান মাজারের কাছে তার মরদেহ দাফন করা হয়েছে। আজ সরকারিভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে তেহরান।

মৃত্যুঞ্জয়ী আলী খামেনি এই মাশহাদ শহরেই ১৯৩৯ সালের ১৫ জুলাই জন্মেছিলেন। মৃত্যুর পর এই শহরেই মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত হওয়ার মধ্যদিয়ে অনন্তলোকে যাত্রা করলেন।

খামেনির দাফনের সময় তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু তার মেজো ছেলে এবং ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে সেখানে দেখা যায়নি। খবর রয়টার্সের

ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে টানাপোড়েনের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। নারকীয় হামলার প্রথম দিনেই নিহত হন আয়তুল্লাহ খামেনি, যিনি টানা ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্ত্রী, কন্যা, নাতি, এবং মোজতবা খামেনির স্ত্রী নিহত হন এবং মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হন।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছিলেন ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লা খোমেনি। ১৯৮৯ সালে তার মৃত্যুর পর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এ পদে আসেন এবং গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত এই পদেই অধিষ্ঠিত ছিলেন তিনি। সর্বোচ্চ নেতার পদে আসীন হওয়ার আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন খামেনি।

বৃহস্পতিবার যখন খামেনির মরদেহ একটি ট্রাকে করে মাশহাদের জনাকীর্ণ সড়ক দিয়ে ইমাম রেজার মাজারের দিকে নেওয়া হচ্ছিল, সেই সময় ট্রাকের দুই পাশে সাদা পাগড়ি পরা আলেমরা হাঁটছিলেন। কালো পোশাক পরা শোকাহত লাখো মানুষ ইরানের জাতীয় পতাকা, খামেনির ছবি এবং বিপ্লবী স্লোগান–সংবলিত লাল প্ল্যাকার্ড হাতে শোকযাত্রায় অংশ নেন।

খামেনির দাফনের মধ্যে দিয়ে ইরানে গত ছয় দিন ধরে চলা রাষ্টীয় শোক আয়োজনের সমাপ্তি ঘটল। শোকের এই মহাসমাবেশে খামেনির চার ছেলের মধ্যে তিনজন উপস্থিত ছিলেন- মোস্তফা খামেনি (বড় ছেলে), মাসুদ খামেনি (সেজো ছেলে) এবং মেইসাম খামেনি (ছোট ছেলে)। দাফনের সময় শেষ জানাজার নামাজে ইমামতি করেন বড় ছেলে মোস্তফা খামেনি। বাকি দুই ছেলেও উপস্থিত ছিলেন, তবে মেজো ছেলে এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ছিলেন না। পুরো শোক আয়োজনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনুপস্থিত ছিলেন তিনি।

ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা এবং চিকিৎসাধীন থাকায় মোজতবা তার পিতার শোক অনুষ্ঠান এবং জানাজায় আসতে পারেননি। ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় গুরুতর আহত মোজতবা ধীরে ধীরে সেরে উঠছেন বলেও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল ইরানের মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। ধর্মীয় পরিবারে জন্ম নেওয়া খামেনি তরুণ বয়সে কোম ও মাশহাদে ইসলামি শিক্ষা লাভ করেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি দ্রুত দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসেন। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এরপর ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় ৩৭ বছর তিনি সেই দায়িত্বে ছিলেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ক্রিপ্টোকারেন্সিতে কেনাকাটা কি বৈধ? যা বললেন মুফতি তাকি উসমানী

ক্রিপ্টোকারেন্সিতে কেনাকাটা কি বৈধ? যা বললেন মুফতি তাকি উসমানী

ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে ইরান, দাবি ইসরায়েলের

ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে ইরান, দাবি ইসরায়েলের

বিজেপিতে যোগদান নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন প্রসেনজিৎ

বিজেপিতে যোগদান নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন প্রসেনজিৎ

মেঘনায় বাল্যবিবাহ বন্ধ, অভিভাবককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

মেঘনায় বাল্যবিবাহ বন্ধ, অভিভাবককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App