হত্যার চেষ্টা চালালে ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির মধ্যে চরম উত্তেজনাপূর্ণ হুমকি-পাল্টা হুমকি বিনিময় হয়েছে। ট্রাম্পকে হত্যার যেকোনো প্রচেষ্টার জবাবে ইরানকে পুরোপুরি ‘ধ্বংস’ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
অন্যদিকে, মধ্যস্থতাকারীরা যখন পরিস্থিতি শান্ত করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন, ঠিক তখনই তেহরান তাদের সাবেক নেতার হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এক রাষ্ট্রীয় বিবৃতিতে বলেন, সাবেক সর্বোচ্চ নেতা ও তার বাবার হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়া এখন জনগণের দাবি এবং এটি ‘অবশ্যই ঘটবে’।
উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলায় তার বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনিকে দেশের সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়। তবে মুখমণ্ডলে গুরুতর আঘাত পাওয়ায় এখন পর্যন্ত তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মাশহাদে তার বাবার দাফন সম্পন্ন হয়, যেখানে তেহরান, কোয়ম, নাজাফ ও কারবালায় প্রায় দেড় থেকে তিন কোটি মানুষের ঐতিহাসিক সমাগম ঘটে। এই বিশাল শোকমিছিল থেকে ট্রাম্পকে হত্যার স্লোগান দেওয়া হয়।
এরই প্রতিক্রিয়ায় শনিবার (১১ জুলাই) ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক অত্যন্ত আক্রমণাত্মক পোস্টে লেখেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের দিকে ১,০০০ ক্ষেপণাস্ত্র তাক করা আছে এবং আক্রমণের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টকে—অর্থাৎ আমাকে হত্যার চেষ্টা বা পরিকল্পনা করে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে। খবর আল-জাজিরার
তিনি আরও জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ইতোমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তারা এক বছরের মধ্যে ইরানের সমস্ত অঞ্চলকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন করতে সক্ষম। মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-কে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইরানের একটি সুনির্দিষ্ট ও সক্রিয় হত্যা চক্রান্তের ব্যাপারে আগেই সতর্ক করেছিল।
এই তীব্র বাকযুদ্ধ এমন এক সময়ে এল যখন ওমান সাগরে কাতারি ও সৌদি ট্যাংকারে ইরানি হামলার পর মার্কিন বিমান হামলা এবং তার জবাবে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে দুই দেশের মধ্যকার সাময়িক যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়েছে। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরান আমাদের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছে এবং আমরা তাতে রাজি হয়েছি। তবে ওয়াশিংটন তেহরানকে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, যুদ্ধবিরতির দিন শেষ!
ওয়াশিংটনের এই প্রচণ্ড চাপের মুখে ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বলেন, ইরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতা স্মারক থেকে ওয়াশিংটন পিছিয়ে গেলে ইরান পূর্ণাঙ্গ আত্মরক্ষার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
অন্যদিকে, ওমানে অবস্থানরত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের বিষয়ে আলোচনা করছেন। তবে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান থেকে সরে না আসা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হবে না।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করলেও পর্দার আড়ালে কূটনীতি সচল রয়েছে। কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে অবস্থান করছেন এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই সংকট নিরসনে তৎপর রয়েছেন। তবে ওয়াশিংটন শর্ত দিয়েছে যে যেকোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে ইরানকে অবশ্যই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির সীমা মেনে নিতে হবে এবং পারমাণবিক উপাদান হস্তান্তর করতে হবে।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের ধ্বংসাত্মক হুমকি এবং সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার পর তেহরান ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছে, যা শান্তি আলোচনাকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
