‘নিজামীর মৃত্যুদণ্ড ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও দলটির বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (৯ মে) একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকরের দশম বার্ষিকী সামনে রেখে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। ২০১৬ সালের ১০ মে দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিলো।
বিবৃতিতে শফিকুর রহমান বলেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলেমে দ্বীন ও সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী বাংলাদেশের জনগণের কাছে সুপরিচিত ও শ্রদ্ধাভাজন নাম। তিনি ছিলেন প্রজ্ঞাবান আলেমে দ্বীন, দূরদর্শী ইসলামী চিন্তাবিদ এবং আদর্শনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ। সততা, প্রজ্ঞা, বিনয়, উদারতা ও নেতৃত্বগুণ তাকে অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছে।’
বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, ‘মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে শৈশবকাল থেকেই মাওলানা নিজামী প্রতিটি স্তরে নেতৃত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। ছাত্রজীবনের শুরু থেকেই তিনি ইসলামী আদর্শের প্রচার, প্রসার ও প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মনিয়োগ করেন। একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আজীবন সংগ্রাম করেছেন। গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইসলামের সুমহান আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশকে ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্রে রূপান্তরের লক্ষ্যেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী নিজ এলাকা থেকে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিপুল ভোটে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জাতীয় সংসদে তার গঠনমূলক ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। ইসলামী শিক্ষার প্রসারে তার অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কওমী মাদ্রাসা শিক্ষার সরকারি স্বীকৃতির ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘তিনি অত্যন্ত সততা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কৃষি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। তার দূরদর্শী নেতৃত্ব, কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার ফলে দেশের শিল্পখাত নতুন গতিশীলতা লাভ করে এবং লাভজনক খাতে পরিণত হয়।’
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল ব্যাপক। ২০০৬ সালের এক বৈশ্বিক জরিপে বিশ্বের প্রভাবশালী ৫০০ ব্যক্তিত্বের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। পরে ২০০৯ সালের আরেক বৈশ্বিক জরিপে বিশ্বের প্রভাবশালী ৫০ মুসলিম ব্যক্তিত্বের অন্যতম হিসেবে তাকে বিবেচনা করা হয়। তিনি অসংখ্য মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ গঠনে আলোর দিশা হিসেবে কাজ করবে। দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সেমিনার, সভা ও সমাবেশে তার দাওয়াতি বক্তব্য মানুষের চিন্তা-চেতনায় গভীর প্রভাব সৃষ্টি করেছে।’
বিবৃতিতে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর আদর্শ ও অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশকে ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর আন্দোলনে শরিক হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান জামায়াত আমির।
