নবম আরবান ডায়ালগে ১৬ দফা প্রস্তাবনা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
২০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার অংশগ্রহণে ঢাকায় অনুষ্ঠিত নবম আরবান ডায়ালগ ২০২৬-এ ১৬-দফা প্রস্তাবনা গ্রহণ করা হয়েছে।
দ্রুত নগরায়ণের কারণে সৃষ্ট জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা, নগর সামাজিক সুরক্ষাজাল তৈরি, সুষম নগরায়ণে সবুজ প্রবৃদ্ধি এবং আবাসন সংকট ও জীবিকার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘জাতীয় নগর নীতি ২০২৫’, ‘স্থানিক পরিকল্পনা আইন ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (২০২৩–২০৫০)’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে এই প্রস্তাবনা গ্রহণ করা হয়।
আরবান আইএনজিও ফোরাম বাংলাদেশ আয়োজিত সংলাপে বক্তারা সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে নগর ব্যবস্থাপনায় নীতিমালার কার্যকর প্রয়োগ এবং সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে শহরগুলোকে জনবান্ধব করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইদুর রহমান খান। তিনি বলেন, উন্নয়ন কর্মসূচির সাথে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে সম্পৃক্ত না করলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি আরো জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রায় এক লক্ষ নগর স্বেচ্ছাসেবক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
তিনি দুর্যোগ প্রস্তুতিকে আরো টেকসই করতে শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্যোগ সচেতনতা অন্তর্ভুক্ত করা, স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি, খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ এবং জলবায়ু সহনশীল নগর পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ও ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের প্রেক্ষাপটে নগর সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বিদ্যমান অবকাঠামোগত ঘাটতি ও সামাজিক-অর্থনৈতিক বৈষম্য নিরসনে সুপরিকল্পিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি।
দিনব্যাপী আয়োজিত সংলাপে গৃহীত ১৬-দফা ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ভূমি মালিকানার জটিলতা নির্বিশেষে বস্তিবাসীসহ সকল নাগরিকের নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা মৌলিক অধিকার।
এছাড়া শহর এলাকায় ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় জাতীয় হিট অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়ন, কর্মজীবী মায়েদের সহায়তায় এলাকাভিত্তিক চাইল্ড-কেয়ার হাব প্রতিষ্ঠা এবং বর্জ্য ও স্যানিটেশন কর্মীদের পৌর ব্যবস্থাপনার মূল কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করে ন্যায্য মজুরি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রস্তাব করা হয়।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে রক্ষায় সবুজ ও নীল অবকাঠামো (গ্রিন অ্যান্ড ব্লু ইনফ্রাস্ট্রাকচার) উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সংলাপে তিনটি কারিগরি অধিবেশনে সাশ্রয়ী আবাসন, নগর জীবিকায়ন এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা তাপপ্রবাহ, জলাবদ্ধতা ও মৌলিক সেবার ঘাটতিসহ নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
সমাপনী অধিবেশনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান ঘোষণাগুলোর বাস্তবায়নে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আয়োজনে নগর বিশেষজ্ঞ ড. কে এম নুরুজ্জামান, জলবায়ু গবেষক অধ্যাপক ড. নাজনীন আহমেদ, সমাজবিজ্ঞানী ড. এম এ কাশেমসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, নগর গবেষক ও কর্মীরা অংশ নেন।
