খুলনা সহ ১৫ জেলায় আবারও জালানী তেল সংকট
বাবুল আকতার, খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
ছবি: কাগজ প্রতিবেদক
খুলনা পদ্মা-মেঘনা ও যমুনা ডিপো থেকে রেশনিং পদ্বতিতে জ্বালানি তেল বিতরন করায় আবারও অস্তিরতা দেখা দিয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তেল সেক্টরে। চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল না পাওয়ায় খুলনা বিভাগের ১০ ও বৃহত্তর ফরিদপুরে ৫ জেলার পেট্রোল পাম্প গুলো চরমভাবে তেল সংকটে পড়েছে। যে কারনে পাম্প কর্তৃপক্ষ ক্রেতাদের কাছে পর্যাপ্ত তেল বিক্রি করতে পারছে না। ফলে সাধারন মানুষের সাথে প্রতি নিয়ত বাকবিতন্ডে জড়িয়ে পড়ছে পাম্পের কর্মচারীরা। এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পাম্প কর্তৃপক্ষ।
ঈদের দিন ও গতকাল খুলনার ৩ ডিপো বন্ধ থাকার পর আজ সোমাবার স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এখনো পর্যন্ত সেই রেশনিং পদ্বতিতে জ্বালানি তেল বিতরন করছে ডিপো কর্তৃকপক্ষ। যে কারনে খুলনা বিভাগের খুলনা, বাগেরহাট,সাতক্ষীরা, যশোর, নড়াইল, মাগুরা ,মেহেরপুর, ঝিনাদাহ, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও বৃহত্তর ফরিদপুরের ফরিদপুর, রাজবাড়ী ,মাদারীপুর, শরীয়তপুর , গোপলগঞ্জ জেলার পেট্রোল পাম্পগুলো জ্বালানি তেল সংকটে পড়েছে।
ডিপো গুলো থেকে কোন কোন পাম্পে জ্বালানি তেল দিচ্ছেনা , আবার কোন কোন পাম্পে চাহিদার তুলনায় অর্ধেক দিচ্ছে, এমন অভিযোগ করছে পাম্প কর্মচারীরা।
তারা জানান, বর্তমানে পাম্পে পেট্রোল ও অকটেন নেই। তেল উত্তোলনের জন্য ডিপোতে গাড়ী পাঠানো হয়েছে । কতটুকু জ্বালানি তেল পাবো তা এখনো বলতে পারছিনা । নগরীর খালিশপুর নতুন রাস্তা মোড়ে এলেনা পেট্রোল পাম্পের কর্মকতারা জানান, পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল সহ প্রতিদিন তাদের চাহিদা রয়েছে ১৩ হাজার লিটার । অথচো ডিপো থেকে তাদের সরবরহ করছে মাত্র ৫ হাজার লিটার । কর্মকর্তারা বলেন, এই পাম্প থেকে নগরীর ১৮টি সরকারী প্রাতিষ্ঠান তেল সরবরহ করে। তাদের চাহিদা মেটাতে না পারলে সরকারী অফিসের কার্যক্রম অনেকটাই থমকে যাবে। মোটর সাইকেল ও প্রাইভেট কার সহ বিভিন্ন যানবহনের মালিক চালকরা খুলনার অনেক পেট্রোল পাম্পে তেল সংকটের কথা জানান। তারা তেল না পেয়ে পাম্প থেকে ফিরে আসারও অভিযোগ করেছেন ।
এদিকে বাংলাদেশ জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতি খুলনা বিভাগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সোবাাহান জানান, খুলনা বিভাগ সহ ১৫ জেলায় ৩৮০ টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে । এই পাম্প গুলোর জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রতিদিন ৪০ লাখ লিটার । যা খুলনা পদ্মা , মেঘনা ও যমুনা ডিপো থেকে সরবরহ করা হয়। বর্তামনে ওই ৩ ডিপো থেকে প্রতিদিন মাত্র ১০ লাখ লিটার তেল সরবরহ করা হচ্ছে। এই তেল দিয়ে কোন ভাবেই সাধারন মানুষের চাহিদা মেটানো সম্ভাবনা ।
তিনি আরো জানান, একদিকে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হচ্ছে , যে জ্বালানি তেলের কোন সংকট নেই। অন্যদিকে ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছেনা। যে করনে সাধারণ মানুষের সাথে পেট্রোল পাম্প কর্মচারীদের মুখো মুখী হতে হচ্ছে। আমরা এখন নিরাপত্তহীনতায় ভুগছি। এ পরিস্থিতি কোনভাবেই পাম্প চলানো সম্ভব না বলে তিনি জানান।
আব্দুস সোবাাহান আরো অভিযোগ করেন, সরকার রেশনিং পদ্বতিতে জ্বালানি তেল বিতরন নিয়ম প্রত্যাহার করে নিলেও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন সেই নির্দেশ মানছেনা । রেশনীং পদ্বতিতে তেল সরবরহ করার জন্য বিপিসিএল কর্তৃপক্ষ ডিপো কর্মকর্তাদের দিয়েছে। যে কারণে পাম্প মালিকরা পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় এ তেল সংকট দেখা দিয়েছে। অবিলম্বে চাহিদা অনুযায় তেল সরবরহ করার জন্য সরকারে প্রতি আহবান জানান বাংলাদেশ জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতি খুলনা বিভাগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সোবাাহান।
