×

খুলনা

বিচারের আশায় পরিবার, ৭ মাসেও অন্ধকারে মায়া হত্যার রহস্য

Icon

নুর আলম দুলাল, কুষ্টিয়া

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম

বিচারের আশায় পরিবার, ৭ মাসেও অন্ধকারে মায়া হত্যার রহস্য

ছবি : সংগৃহীত

কুষ্টিয়ায় কিশোরী মায়া খাতুন হত্যার রহস্য দীর্ঘ সময়েও উদঘাটিত হয়নি। ঘটনার পর প্রায় ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও হিস্টোপ্যাথলজি রিপোর্ট না আসায় তদন্ত কার্যত স্থবির হয়ে রয়েছে। এতে ভুক্তভোগী পরিবার বিচার পাওয়ার আশা হারাতে বসেছে।

পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের করা অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা এখনো হত্যা মামলায় রূপ নেয়নি। ফলে অভিযুক্তরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে এবং বিচারহীনতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জানা যায়, ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট সকালে কুষ্টিয়ার বারো শরীফ দরবারের সামনে অজ্ঞাত এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। লাশটির মুখমণ্ডল বিকৃত থাকায় প্রথমে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে খবর পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট অপমৃত্যু মামলা (নং-৩৬০) দায়ের করা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। পরে মর্গে এসে বৃদ্ধা নানী লাশটি শনাক্ত করেন। নিহত কিশোরীর নাম মায়া খাতুন (১৬)।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে মায়ার মা শিরিনা খাতুনের সঙ্গে পাবনার আবুল কালামের বিয়ে হয়। কয়েক বছর পর তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। তখন মায়ার বয়স ছিল ৯ বছর। এরপর বাবা-মা উভয়েই নতুন সংসার শুরু করেন এবং মায়ার দায়িত্ব নেননি। ফলে নানী আনজু বেগম-এর কাছেই বেড়ে ওঠে সে।

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ১০ আগস্ট কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জনের কাছে দেওয়া প্রতিবেদনে মায়ার কপাল, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নের কথা উল্লেখ করেন। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের নমুনা হিস্টোপ্যাথলজির জন্য পাঠানোর সুপারিশ করা হয়। ১৮ আগস্ট ওই প্রতিবেদন সিভিল সার্জন কার্যালয়ে নথিভুক্ত হয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়।

তবে দীর্ঘ ৯ মাসেও হিস্টোপ্যাথলজি রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজ নিয়েও কোনো অগ্রগতি জানা যায়নি।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবদুল মান্নান বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে ভিসেরা সংগ্রহ করে হিস্টোপ্যাথলজির জন্য পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব পুলিশের।

নিহতের নানী আনজু বেগম জানান, জীবিকার তাগিদে অন্যের বাড়িতে কাজ করতে হওয়ায় তিনি নাতনিকে সবসময় দেখাশোনা করতে পারতেন না। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালে কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশন এলাকায় চা বিক্রেতা সোহেল নামের এক ব্যক্তি মায়াকে যৌন নির্যাতন করে। এ ঘটনায় পুলিশ সোহেলকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালেও জামিনে বেরিয়ে এসে সে মায়াকে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত ও হুমকি দিত। মৃত্যুর কয়েকদিন আগেও হুমকি দিয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। সোহেলের বাড়ি থানাপাড়া গড়াই সেতুর নিচে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মায়া বাসা থেকে বের হয়, এরপর আর ফিরে আসেনি।

অপর স্বজন রেবেকা খাতুন বলেন, কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশন এলাকার কিছু নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির সঙ্গে মায়ার পরিচয় ছিল। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার রহস্য উদঘাটন হতে পারে। তিনি আনোয়ার নামে এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেন, যিনি কুটিপাড়া বড়ড্রেন এলাকার মোড়ে থাকেন এবং তার পৈতৃক বাড়ি মোল্লাতেঘোরিয়া ক্যানালপাড়ায়।

নানী আনজু বেগম জানান, ঘটনার পর তিনি সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে মামলা করতে চাইলেও পুলিশ তাকে অপেক্ষা করতে বলে। স্টেশনে শুনেছি, ল কলেজের ভেতরে হত্যা করে লাশ অন্য জায়গায় ফেলে রাখা হয়েছে। তখন ওসি সাহেব বলেছিলেন, রিপোর্ট এলেই মামলা হবে।

এদিকে দীর্ঘ সময়েও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় হতাশা বাড়ছে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে বর্তমানে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, সে সময় যেহেতু আমি ছিলাম না। বর্তমানে ওই মামলার বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে পরে জানাতে পারবো।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

প্রভিডেন্ট ফান্ড ও আবাসন সুবিধাসহ আকিজ গ্রুপে চাকরি

প্রভিডেন্ট ফান্ড ও আবাসন সুবিধাসহ আকিজ গ্রুপে চাকরি

কতদিন বৃষ্টি থাকবে, জানালো আবহাওয়া অফিস

কতদিন বৃষ্টি থাকবে, জানালো আবহাওয়া অফিস

ফসল হারানোর শোকে কৃষকের মৃত্যু

ফসল হারানোর শোকে কৃষকের মৃত্যু

ডিপিএলে ড্রেসিংরুমে ফোন নিষিদ্ধ

ডিপিএলে ড্রেসিংরুমে ফোন নিষিদ্ধ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App