চানখারপুলে ছয় হত্যা
সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখারপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় আরো পাঁচ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার–এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি হলেন—ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম।
এছাড়া রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছরের কারাদণ্ড, শাহবাগ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেনকে চার বছরের কারাদণ্ড এবং কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলামকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলার আট আসামির মধ্যে বর্তমানে চারজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন—আরশাদ হোসেন, সুজন মিয়া, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলাম। রায় ঘোষণার আগে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তবে হাবিবুর রহমান, আখতারুল ইসলাম, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও মোহাম্মদ ইমরুল এখনও পলাতক রয়েছেন।
রায়ে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেন, চানখারপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় আসামিদের সরাসরি সম্পৃক্ততার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানের পক্ষ থেকে ওয়্যারলেস বার্তার মাধ্যমে অধস্তনদের মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।
পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এটি প্রথম মামলা হলেও রায়ের দিক থেকে দ্বিতীয়। ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের দিনে। ওইদিন পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, ইয়াকুব, রাকিব হাওলাদার, ইশমামুল হক ও মানিক মিয়া।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। প্রসিকিউশন পক্ষ আদালতে ১৯টি ভিডিও, ১১টি পত্রিকার প্রতিবেদন, দুটি অডিও, একটি বই, আরও ১১টি নথিপত্র এবং ছয়টি মৃত্যুসনদ দাখিল করে।
রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে গত ২৪ ডিসেম্বর রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তবে প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় ২০ জানুয়ারি নির্ধারিত রায় ঘোষণা স্থগিত করে আজকের দিন ধার্য করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ট্রাইব্যুনাল-১ এই বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন।
