×

অন্যান্য

সাজে নারীবাদ, নারীবাদীদের বেশভূষা

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম

সাজে নারীবাদ, নারীবাদীদের বেশভূষা

ছবি : সংগৃহীত

একজন অতিজনপ্রিয় অভিনেত্রী বলেছিলেন, তিনি নারীবাদী নন, তা তার সাজ দেখলেই বোঝা যাবে। তিনি মেকআপ করেন, খোলামেলা পোশাক পরেন, এমনকি চুলে নকশা করতে ভালোবাসেন। তার মতে, যদি তিনি নারীবাদী হতেন, তবে হয়তো এমন পোশাক পরা সম্ভব হতো না।

নারীবাদী হওয়া বা না-হওয়া কারও ব্যক্তিগত বিবেচনার বিষয়। বহু বছর ধরে ‘নারীবাদী’ বা ‘ফেমিনিস্ট’ শব্দটি কখনও কখনও অপশব্দ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। অনেকে জোর গলায় বলেন, তারা নারীবাদী নন। তবে সাজ দিয়ে কারও নারীবাদিতা বিচার করা ঠিক কি? কাজের গুরুত্ব কি সাজের ওপর নির্ভর করে?

ভারতীয় চলচ্চিত্র ও নাট্যকর্মী সুস্মিতা সিংহ বলেন, নারীবাদীর জন্য কোনও নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম নেই। এক এক নারী এক এক রকম সাজে। এটিই স্বাভাবিক। সাজ দিয়ে নারীবাদের কাজ বা আদর্শ পরিমাপ করা যায় না।

আরো পড়ুন : আন্তর্জাতিক নারী দিবস, সংগ্রাম থেকে সমতার পথে নবপ্রত্যয়

আজ যা স্বাভাবিক মনে হয়, একসময় তা ছিল না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মেয়েদের জীবন ও পোশাকের ধারা বদলাতে শুরু করে। পশ্চিমা বিশ্বের মেয়েরা তখন ঘরোয়া পোশাককে চ্যালেঞ্জ জানাতে শুরু করেন। পোলকা ডট বা ফুলেল নকশা থাকলেও তা মেয়েলি হিসেবে গণ্য হত। ষাট-সত্তরের দশকে সেই ধারণা ভেঙে যায়। ভারতীয় উপমহাদেশের নারীরাও নিজের মতো সাজকে যুগোপযোগী করেন। তখন পুরুষ ও নারীর পোশাকের মধ্যে পার্থক্য কমতে থাকে।

সেকেন্ড ওয়েভ ফেমিনিজমের সময়ে পাওয়ার ড্রেসিং ধারণা ছড়িয়ে পড়ে। যে নারী কোট-প্যান্ট পরতেন, তাকে ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। কেউ মিনি স্কার্ট বা মিনি ড্রেস পরতেন এবং ফ্যাশন শোর মাধ্যমে নারীরা সমবেত হওয়ার বার্তা দিতেন।

আন্দোলনের ধাপে ধাপে অনেক সাজের অংশ বর্জন করা হয়েছে, কিছু বয়ে নেওয়া হয়েছে আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে। কিছু সাজ নিন্দিতও হয়েছে। কেউ বলেছেন, খোলামেলা পোশাক মানে নিজের শরীর প্রদর্শন। অনেক সফল নারীরা বলেন, নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী সাজ মানে নিজেকে ‘অবজেক্টিফাই’ করা নয়। নারীবাদীরা যেমন সাজতে চায়, তেমন সাজবেন।

নারীর সাজ বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে আলাদা। ভোটাধিকার লড়াইরত নারী, লেখাপড়ার অধিকারের জন্য লড়াইরত নারী, সবার সাজ আলাদা। পাকিস্তানের মালালা ইউসুফজাই যেমন বোরখা পরতেন, তবুও তিনি কম নারীবাদী নন। কর্পোরেট অফিসে কাজ করা নারী যদি সমান বেতনের দাবি নিয়ে লাল লিপস্টিক পরে অফিসে যান, তাহলে কি তাকে কম বিপ্লবী ধরা হবে?

গ্লোরিয়া স্টাইনম, আমেরিকার সাংবাদিক ও সমাজকর্মী, সত্তরের দশকে নারী আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। তাকে নিয়ে ফ্রান্সের এক ফ্যাশন ম্যাগাজিনে কভার স্টোরি প্রকাশিত হয়। তার সাজ বা ফ্যাশন তার কাজের গুরুত্বকে কখনও কমায়নি। ষাটের দশক থেকে শুরু করে ‘বাস্ট’, ‘বিচ’সহ একের পর এক ম্যাগাজিন নারীবাদী আন্দোলনের সঙ্গে সাজকে যুক্ত করেছে। সেখানে নানা রঙের সাজ হয়ে উঠেছে নারীর পরিচয়। ‘সম কাজে সম সাজ’ ধারণা কখনও বাধ্যতামূলক ছিল না।

ফলে, নারীবাদী মানেই সাজহীন হওয়া নয়। নারীর সাজ তার কাজ বা আদর্শ নির্ধারণ করে না। নিজের ইচ্ছা, আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা দিয়েই নারীবাদী নারীরা সমাজে কাজ করে যাচ্ছেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

রাসিক পরিচ্ছন্নকর্মীরা পেলেন প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

রাসিক পরিচ্ছন্নকর্মীরা পেলেন প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

ঝালকাঠিতে বন বিভাগের গাছ কাটা বন্ধের দাবিতে মানবন্ধন

ঝালকাঠিতে বন বিভাগের গাছ কাটা বন্ধের দাবিতে মানবন্ধন

ঝালকাঠিতে খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

ঝালকাঠিতে খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

সড়ক দুর্ঘটনায় অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন এমপি আতিক মোজাহিদ

সড়ক দুর্ঘটনায় অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন এমপি আতিক মোজাহিদ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App