পাকিস্তান-সৌদির বিরুদ্ধে জোট গড়তে ভারতের সমর্থন চান নেতানিয়াহু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি : সংগৃহীত
পশ্চিম এশিয়াকে কেন্দ্র করে একটি নতুন কৌশলগত জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এই উদ্যোগে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে ভারতকে পাশে পেতে আগ্রহী। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুইদিনের সফরে ইসরায়েলে পৌঁছাবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর সফরকে ঘিরেই পশ্চিম এশিয়া-কেন্দ্রিক নতুন এই জোটকে বাস্তব রূপ দিতে চান ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহু। জোটটির প্রস্তাবিত নাম ‘ষড়ভুজ’।
নেতানিয়াহুর লক্ষ্য, পশ্চিম এশিয়া ও সংলগ্ন অঞ্চলে এমন একটি শক্তিশালী অক্ষ গড়ে তোলা, যা চরমপন্থী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রস্তাবিত ‘ইসলামিক নেটো’র পাল্টা কৌশল হিসেবেই এই জোটের ধারণা সামনে এনেছেন তিনি।
মোদির সফর শুরুর আগেই ‘ষড়ভুজ জোট’এর ঘোষণা দেন নেতানিয়াহু। প্রস্তাবিত এই জোটে ভারতের পাশাপাশি গ্রিস ও সাইপ্রাসকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া আরব, আফ্রিকা ও এশিয়ার আরো কয়েকটি দেশকে যুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। তবে জোটের অন্যতম প্রধান ও প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে ভারতকেই তিনি দেখতে চান। তিনি জানান, মোদির এই সফর পশ্চিম এশিয়ায় চরমপন্থাবিরোধী ঐক্যের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
নতুন জোটের মূল লক্ষ্য হবে সন্ত্রাস ও চরমপন্থী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সমন্বিত অবস্থান গ্রহণ করা। দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরব ভারত। বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতার বার্তা দিয়ে এসেছেন মোদি। সেই প্রেক্ষাপটে ‘ষড়ভুজ’ জোটের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতবিনিময়, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের পরিকল্পনা করছেন নেতানিয়াহু।
আরো পড়ুন : পশ্চিম এশিয়া নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বিতর্কিত মন্তব্য
নয়াদিল্লি ও তেল আভিভ উভয়েই আশা প্রকাশ করেছে, মোদির এই সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় করবে। কৌশলগত সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, কৃষি ও সন্ত্রাস মোকাবিলায় সমন্বয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ককে ‘বিশেষ সম্পর্ক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন নেতানিয়াহু। তাঁর বক্তব্য, মোদির সফরের ফলে অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরো বিস্তৃত হবে, পাশাপাশি উচ্চপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রেও যৌথ উদ্যোগ বাড়বে।
তৃতীয় দফায় দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি মোদির প্রথম ইসরায়েল সফর। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, গাজা শান্তি পরিকল্পনা এবং ইসরায়েল-হামাস সংঘাত মোকাবিলায় সম্ভাব্য বহুপক্ষীয় উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হতে পারে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে। তবে ‘ষড়ভুজ’ জোট প্রসঙ্গে ভারত কী অবস্থান নেয়, সেদিকে আন্তর্জাতিক মহলের বিশেষ নজর রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের কৌশলগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও বাণিজ্য সহযোগিতার দিকেই হয়তো বেশি গুরুত্ব দেবে ভারত।
