ইবাদতের রঙে সাজুক পবিত্র শবে বরাত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম
ছবি: প্রতিকি
মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বরকতময় একটি রাত হলো শবে বরাত। হিজরি বর্ষপঞ্জির শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলিমদের কাছে 'লাইলাতুল বরাত' বা 'মুক্তির রজনী' হিসেবে পরিচিত।
ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এ রাতে মহান আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের জন্য রহমতের দরজা খুলে দেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা কারীদের পাপ মোচন করেন। এই শবে বরাত মূলত আত্মশুদ্ধি, তওবা এবং আগামী এক বছরের ভাগ্য নির্ধারণের (রিজিক, হায়াত ও মউত) পবিত্র ক্ষণ হিসেবে বিবেচিত। হাদিস শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী, মহান আল্লাহ এই রাতে প্রথম আসমানে নেমে আসেন এবং বান্দাদের ডাক দিয়ে বলেন— ‘আছ কি কেউ ক্ষমা প্রার্থনাকারী? আমি তাকে ক্ষমা করব।’
শবে বরাত উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সারারাত জেগে নফল নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আসকার ও বিশেষ দোয়ায় মগ্ন থাকেন। এছাড়াও শাবান মাসের ১৫ তারিখে (শবে বরাতের পরের দিন) অনেকেই নফল রোজা রাখেন। সামর্থ্য অনুযায়ী দরিদ্রদের মাঝে খাদ্য ও অর্থ বিতরণ করা হয়। এই রাতে অনেকে প্রিয়জনদের কবরের পাশে গিয়ে দোয়া ও মোনাজাত করেন।
ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি শবে বরাতকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশে কিছু সুন্দর সামাজিক রীতিও প্রচলিত আছে। ঘরে ঘরে হালুয়া-রুটি তৈরি করা এবং পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনের মাঝে তা বিতরণ করার মাধ্যমে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। তবে বর্তমানে আলোকসজ্জা বা আতশবাজির মতো অপচয়মূলক কাজের চেয়ে নিভৃতে ইবাদত করার ওপরই আলেম সমাজ অধিক গুরুত্ব দেন।
শবে বরাত আমাদের জন্য কেবল একটি রজনী নয়, বরং এটি আধ্যাত্মিক উন্নতির এক অনন্য মাধ্যম। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে একে অপরের প্রতি সৌহার্দ্য এবং মহান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমেই এই রাতের প্রকৃত শিক্ষা সার্থক হয়ে ওঠে।
