শেরপুরে বাফার গুদামে সার কেলেঙ্কারি: কালোবাজারি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে উত্তেজনা
খোরশেদ আলম, শেরপুর
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
শেরপুরের ঝিনাইগাতী বাফার গুদামকে ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম, চাঁদাবাজি এবং কালোবাজারে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। গুদামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সরকার ট্রেডার্সের প্রতিনিধি এবং শ্রমিক প্রতিনিধির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও ট্রাক মালিকরা।
অভিযোগে বলা হয়, গুদামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আদিলুজ্জামান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শ্রমিক প্রতিনিধি মেহেদী হাসান হালিমের সঙ্গে যোগসাজশে নানা অনিয়ম করে আসছেন। শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, ট্রাকে নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত সার বোঝাই এবং কালোবাজারে সার বিক্রির মতো কর্মকাণ্ড নিয়মিত চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, জামুনা ফার্টিলাইজার কারখানা থেকে সার প্রথমে ঝিনাইগাতী বাফার গুদামে এসে পরে ডিলারদের কাছে সরবরাহ হওয়ার কথা। তবে অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে ট্রাক সরাসরি কারখানা থেকেই শেরপুর ও জামালপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে ডিলারদের কাছে পাঠানো হচ্ছে, অথচ কাগজে-কলমে তা গুদাম থেকে বিতরণ দেখানো হচ্ছে।
এছাড়া নির্ধারিত এলাকার বাইরে সার বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। সম্প্রতি নকলা উপজেলা প্রশাসন কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে একটি ট্রাকভর্তি সার আটক করেছে। কৃষকদের অভিযোগ, এসব অনিয়মের কারণে চলতি বোরো মৌসুমে তারা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না।
ট্রাক মালিকদের দাবি, অতিরিক্ত সার বোঝাইয়ের ক্ষেত্রে তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এতে শ্রমিক ও পরিবহন মালিকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
ট্রাক মালিক সিরাজুল করিম জানান, তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সরকার ট্রেডার্স তাদের প্রতিনিধি মেহেদী হাসান হালিমকে প্রত্যাহার করে শাহ আলমকে নতুন প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়। কিন্তু হালিম তার অবস্থান ধরে রাখতে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এবং গত তিন দিন ধরে গুদাম থেকে সার বিতরণ বন্ধ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে মেহেদী হাসান হালিম বলেন, তাকে পুনরায় প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে শাহ আলম দাবি করেন, তিনি লিখিতভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং অন্যায়ভাবে তাকে বাদ দেওয়া হলে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।
গুদামের কর্মকর্তা আদিলুজ্জামান বলেন, অভিযোগের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হয়েছে। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল আমীন জানান, তিনি এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাননি বলে তার জানা নেই।
