×

জাতীয়

পুলিশের লাঞ্ছনা-আঘাতের শিকার ঢাবির নারী শিক্ষক: ইন্টারনেটে সমালোচনার ঝড়

Icon

ঢাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৪, ০৫:০৬ পিএম

পুলিশের লাঞ্ছনা-আঘাতের শিকার ঢাবির নারী শিক্ষক: ইন্টারনেটে সমালোচনার ঝড়

ছবি: সংগৃহীত

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচিতে এবার নিজ ক্যাম্পাসেই পুলিশের লাঞ্ছনা ও আঘাতের শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) লোক প্রশাসন বিভাগের প্রভাষক শেহরীন আমিন মোনেমি। এতে নেট দুনিয়ায় বিক্ষোভ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৩১ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল এলাকার দোয়েল চত্বর ও হাইকোর্টের মাঝামাঝি যায়গায় এ ঘটনা ঘটে। ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের মধ্যে এক পুলিশ সদস্যের প্রাথমিক পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি রমনা জোনের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল। 

ঢাবি ও বুয়েটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যৌথ 'মার্চ ফর জাস্টিস' কর্মসূচি থেকে পুলিশ এক ছাত্রকে ধরে নিয়ে যেতে চাইলে শেহরীন আমিন মোনামি বাধা দেন। এক পর্যায়ে পুলিশ ঢাবি শিক্ষকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং বল প্রয়োগের হুমকি দেন। এসময় যে শিক্ষার্থীকে ধরা হয়েছে তাকে ছেড়ে দিতে বারবার বলার পরেও পুলিশ সদস্যরা তাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ সদস্যদের থেকে শিক্ষার্থীকে ছাড়িয়ে আনতে ওই শিক্ষার্থীকে ধরে আগলে রাখার চেষ্টা করেন শিক্ষক। এক পর্যায়ে শেহরীন আমিন মোনামিনার হাত মোচড় দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় পুলিশ সদস্যরা। এতে হাতে, হাঁটুসহ পায়ে আঘাত পান তিনি। পরে ধস্তাধস্তি করে পুলিশ ছেলেটিকে ধরে নিয়ে যায়। এসময় ঢাবি শিক্ষক শেহরীন আমিন মোনামির সঙ্গে থাকা লোক প্রশাসন বিভাগের আরেকজন শিক্ষক অধ্যাপক ড. নুসরাত জাহান চৌধুরীও পুলিশের আক্রমণের শিকার হন। 

পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা কি এখানে দাঁড়াতে পারবো না? আমাদের মৌলিক অধিকার কি 'সাসপেন্ডেড'? আমরা শিক্ষার্থীদের থেকে অনেক ম্যাসেজ পাচ্ছিলাম। আমি মনে করি, আমরা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে পারিনি। আমি যখন আমার শিক্ষার্থীদের জন্য দাঁড়াতে পারবো না, তখন ১২০ জন শিক্ষার্থীর সামনে শ্রেণিকক্ষে আমার দাঁড়ানোর নৈতিক অধিকার নাই।  

ক্যাম্পাসে শিক্ষকদের উপর পুলিশের আক্রমণ ও হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছ লোক প্রশাসন বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এক প্রতিবাদ বিবৃতিতে জানায়, আমরা মনে করি এই ঘটনা স্বাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর সমূলে আঘাত করেছে। বিভাগীয় প্রশাসন, সিন্ডিকেট কমিটি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই ঘটনায় দায় এড়াতে পারে না। এই হামলায় জড়িত প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তদের পর দন্ডবিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করি। শিক্ষক জাতির মেরুদণ্ড, এবং জাতির মেরুদণ্ড নির্মাণের কারিগর।

এতে আরো বলা হয়, অবশ্যই বাংলাদেশ পুলিশকে এই আক্রমণের জন্য দাপ্তরিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। প্রথমে আমাদের সহপাঠী এবং এখন আমাদের বিভাগের শিক্ষকদের ওপর এই বেআইনী এবং অমানবিক আক্রমণ কোনোভাবে মেনে নিতে বা কোনো সহাবস্থানে যেতে আমরা রাজি নই।

শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ ঝারছেন অনেক শিক্ষার্থী। এধরনের ঘটনায় পুলিশের শাস্তির দাবি জানান অনেকেই। আবার অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করছেন। 

শিক্ষকদের উপর পুলিশের লাঞ্ছনা ও হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাকসুদুর রহমান বলেন, আমরা বর্তমানে ঘটনা পর্যালোচনা করছি। সবকিছু না জেনে তো কিছু বলতে পারবো না।

টাইমলাইন: কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন

আরো পড়ুন

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে

১৯ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস

১৯ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস

বন্য হাতির দ্রুত চিকিৎসার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বন্য হাতির দ্রুত চিকিৎসার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

চলতি সংসদ অধিবেশনেই সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করতে হবে

গোলাম পরওয়ার চলতি সংসদ অধিবেশনেই সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করতে হবে

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App