এলপিজির সংকট ও দাম নিয়ন্ত্রণে ভ্যাট পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)–এর সংকট ও মূল্য অস্থিরতা মোকাবিলায় বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলপিজি আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে বিদ্যমান ভ্যাট ও কর কাঠামো পুনর্নির্ধারণের অনুরোধ জানিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দিয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এ চিঠি পাঠানো হয়। শীত মৌসুমে এলপিজির বাড়তি চাহিদা ও সরবরাহ সংকটের প্রভাব থেকে ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়, দেশে ব্যবহৃত মোট এলপিজির প্রায় ৯৮ শতাংশই বেসরকারি খাতের মাধ্যমে আমদানি করা হয়, যা শিল্প ও গৃহস্থালি—উভয় খাতেই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত। সাধারণত শীতকালে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি দেশে পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় এলপিজির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। চলতি শীত মৌসুমেও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় বাজারে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর। এ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে।
বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)–এর নেতাদের সঙ্গে সম্প্রতি একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় এলপিজি আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে বিদ্যমান ভ্যাট ও কর কাঠামো পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব উঠে আসে।
এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এলপিজি আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি প্রত্যাহার করে ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে বিদ্যমান ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট, ব্যবসায়ী পর্যায়ের ভ্যাট এবং আগাম কর অব্যাহতির বিষয়টিও আলোচনায় আসে। তবে লোয়াব সদস্যরা আমদানি পর্যায়ে প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে শূন্য শতাংশ ভ্যাট আরোপের দাবি জানান।
চিঠিতে আরো বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানি পর্যায়ে ১০ শতাংশের নিচে ভ্যাট আরোপ এবং স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট, ব্যবসায়ী পর্যায়ের ভ্যাট ও আগাম কর অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদের আলোচনার সঙ্গে একমত পোষণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এনবিআরকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির দাম কতটা কমতে পারে, সে বিষয়ে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগকে সমন্বিতভাবে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
