মানবতাবিরোধী অপরাধ
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আজাদের আত্মসমর্পণ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:২৬ পিএম
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কালাম আজাদ। ছবি : সংগৃহীত
মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কালাম আজাদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেছেন। তার বিরুদ্ধে একাত্তরে সংঘটিত আটটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে তিনি ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন।
এর আগে গত বছর নিজের সাজা স্থগিতের আবেদন জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন আবুল কালাম আজাদ। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী করা ওই আবেদনের কথা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
মামলায় আনা আটটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মধ্যে সাতটিতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং চারটি অভিযোগে কারাদণ্ড দেওয়ার সুযোগ থাকলেও সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় বাকি অভিযোগগুলোর বিষয়ে আলাদা করে দণ্ডাদেশ দেননি ট্রাইব্যুনাল। অপর একটি অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ায় খারিজ করা হয়।
আরো পড়ুন : মানবতাবিরোধী অপরাধ, জয়-পলকের বিচার শুরু
রায়ে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আবুল কালাম আজাদ ১৪ জনকে হত্যা, তিন নারীকে ধর্ষণ, নয়জনকে অপহরণ, ১০ জনকে বেআইনিভাবে আটক রাখা, পাঁচটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ১৫টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন—যা আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।
এই রায়ের মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধের প্রথম কোনো মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। তবে দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় সে সময় তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আগেই তিনি পালিয়ে ভারত হয়ে পাকিস্তানে চলে যান।
এর আগে ২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয় এবং রায় ঘোষণার জন্য মামলাটি অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে এই মামলার বিচার সম্পন্ন হয়।
