জামিনে মুক্তি পেয়ে জেলগেটে ফের আটক ইউপি চেয়ারম্যান
রবিউল ইসলাম বাবুল, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
ছবি: জামিনে মুক্তি পেয়ে জেলগেটে আটক ইউপি চেয়ারম্যান
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় আলোচিত মাদাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লবকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরপরই পুনরায় আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে লালমনিরহাট জেলা কারাগারের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনাটি ঘটে। এনিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
জেলগেটে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মতে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সকালেই কারাগার থেকে বের হন বিপ্লব। এ সময় তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কাজল, পরিবারের সদস্য ও সমর্থকরা তাকে স্বাগত জানিয়ে একটি গাড়ির দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। ঠিক তখনই হঠাৎ ডিবি পুলিশের একটি দল সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের পথরোধ করে।
এক পর্যায়ে অতিরিক্ত কয়েকজন পুলিশ সদস্য এসে বিপ্লবকে ঘিরে ফেলেন এবং সিনেমা স্টাইলে তাকে জোরপূর্বক পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন। এতে আইনজীবী ও উপস্থিত সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং সিনেমা স্টাইলে আবারও তাকে জোরপূর্বক টেনে হেঁচড়ে সাদা গাড়ীতে তুলে নিযে যান।
লালমনিরহাট জেলগেটে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীগনের ভাষ্যমতে এ সময় উপস্থিত লোকজন গ্রেফতারের কারণ জানতে চাইলে পুলিশ কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেনি এবং কোনো পরোয়ানাও প্রদর্শন করেনি বলে অভিযোগ করেন চেযারম্যান বিপ্লবের পরিবার।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি বলেন, “মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এভাবে আবার আটক করা অত্যন্ত বিস্ময়কর। এতে আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।”
জানাগেছে এর আগে গত ১২ মার্চ রাতে নিজ বাসভবন থেকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে বিপ্লবকে গ্রেফতার করে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। পরে ১৬ মার্চ জেলা ও দায়রা জজ আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। তবে কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় তাৎক্ষণিক ভাবে মুক্তি সম্ভব হয়নি তাঁর।
সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অবশেষে মঙ্গলবার সকালে কারামুক্ত হলেও জেলগেটেই ফের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হওয়ায় নতুন করে নানান প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এ বিষয়ে ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য মেলেনি।
চেয়ারম্যানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কাজল অভিযোগ করে বলেন, ২০২৫ সালের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে। বিজ্ঞ আদালত গতকাল তাকে জামিন দিয়েছেন। আজ কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় কোনো ওয়ারেন্ট বা সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়াই ডিবি পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে গেছে। এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং হয়রানিমূলক কাজ।
লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহম্মেদ ভোরের কাগজ সাংবাদিকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন আদিতমারী থানায় রিকোজিশন পেয়ে আমরা তাকে গ্রেফতার করিছি।
সম্প্রতি, কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রভাষক শামসুজ্জামান সবুজের সঙ্গে এমপির ৩০% চালের বরাদ্দ নিয়ে চেয়ারম্যান বিপ্লবের একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিও ফাঁসের পর থেকেই জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং এরপর থেকেই এই জনপ্রতিনিধির ওপর আইনি চাপ বাড়তে থাকে বলে স্থানীয় মহলে আলোচনা ও গুনঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
সৃষ্ট ঘটনায় আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুল হক বলেন,আদিতমারী থানার জাতীয়তাবাদী দল বি,এন,পি"র পার্টি অফিস ভাংগা দায়ের করা মামলাা নং আদিত-৪ তারিখ, ০৩-০৩-২৫ ইং অনুয়ায়ী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য লালমনিরহাট ডিবি পুলিশ অফিসে রিকোজিশন পাঠাই সেই মোতাবেক তাকে আটক করেছে লালমনিরহাট ডিবি পুলিশ।
এদিকে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, বিষয়টি দ্রুত পরিষ্কার না হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা লালমনিরহাট জেলাবাসীর।
