কুয়ায় ফেলে মেয়েকে হত্যা করলো বাবা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পারিবারিক বিয়ে সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভারতের কর্ণাটকে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে নিজের ১৭ বছরের মেয়েকে কুয়ায় ফেলে দেওয়ার পর পাথর ছুড়ে হত্যা করেছেন এক বাবা।
রোববার (১৭ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।
নিহত কিশোরীর নাম মেঘনা (১৭)। সে শিরা তালুকের নিম্বে মারাডাহাল্লি গ্রামে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকত।
পুলিশ জানিয়েছে, ‘মেঘনার বাবা থিম্মারায়াপ্পাই তাকে খুন করেছেন এবং এ বিষয়ে তাদের কাছে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে।’
পুলিশ সূত্রে এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলো মেঘনা। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তার মা নির্মলা দিনমজুরির কাজ শেষে ঘরে ফিরে মেয়েকে দেখতে পাননি। মেঘনার মোবাইলও বন্ধ পাওয়া যায়। এতে মনে সন্দেহ জাগলে নির্মলা থানায় গিয়ে একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করেন।
তদন্তকারীরা জানান, মেঘনার বিয়ে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই পরিবারটিতে তীব্র অশান্তি চলছিলো। মেঘনার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে এক আত্মীয়ের ছেলের সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মা নির্মলা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। এমনকি বরের পক্ষ থেকে বিয়ের শাড়ি ও মঙ্গলসূত্রও কেনা হয়ে গিয়েছিলো।
তবে স্ত্রীর আত্মীয়দের সঙ্গে মেয়ের এই বিয়ে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না বাবা থিম্মারায়াপ্পা। এই বিয়েকে কেন্দ্র করে গত চার-পাঁচ মাস ধরে ওই বাড়িতে প্রতিনিয়ত ঝগড়া হতো। তেমনই এক চরম বিবাদের পরদিনই রহস্যময়ভাবে নিখোঁজ হয় মেঘনা। একই সময়ে তার বাবাও হঠাৎ গা-ঢাকা দিলে পুলিশের মনে সন্দেহের দানা আরও ঘনীভূত হয়।
আটক থিম্মারায়াপ্পা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে নিজের মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশের ধারণা, ঘটনার দিন অভিযুক্ত ব্যক্তি মেঘনাকে একটি কুয়ায় ফেলে দেওয়ার পর তার ওপর পাথর ছুড়ে মারেন। এরপর কুয়া থেকে লাশটি বের করে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে একটি জনমানবহীন স্থানে সমাহিত করেন।
তদন্তকারীরা আরো জানান, ‘এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর যেন কেউ তাকে সন্দেহ না করে, সে জন্য থিম্মারায়াপ্পা নিজেই স্ত্রীর সঙ্গে থানায় গিয়েছিলেন এবং মেয়ের নিখোঁজ ডায়েরি করতে সাহায্য করেছিলেন। এই রোমহর্ষক ঘটনার বিষয়ে পুলিশ এখন আরও বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।’
