খণ্ডিত লাশ উদ্ধার, প্রবাসীকে হত্যার দায় স্বীকার প্রেমিকার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মুগদায় সৌদি প্রবাসী মোকাররম মিয়ার আট টুকরো মরদেহ উদ্ধারের মামলায় তার ‘প্রেমিকা’ তাসলিমা বেগম ওরফে হাসনা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। অন্যদিকে, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার আব্দুল মতিন দেওয়ান ওরফে এ আর দেওয়ানকে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুগদা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক মিঠু তাদের আদালতে হাজির করেন। হাসনা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তা রেকর্ড করা হয় এবং আব্দুল মতিনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথির আদালত হাসনার জবানবন্দি রেকর্ড করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আব্দুল মতিনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ।
প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মনিরুজ্জামান এসব তথ্য জানান।
বুধবার (২০ মে) হাসনাকে নরসিংদী থেকে এবং আব্দুল মতিনকে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর শনিরআখড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এর আগে, মঙ্গলবার (১৯ মে) হাসনার বান্ধবী হেলেনা বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। হেলেনার মেয়ে হালিমা আক্তার কিশোরী হওয়ায় তাকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
মোকাররম মিয়ার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে তালশহরে; রবিবার মুগদার মান্ডা থেকে কয়েক টুকরা লাশ উদ্ধারের পর তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
সোমবার বিকালে র্যাব-৩ সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলন করে হত্যার রহস্য তুলে ধরে স্কোয়াড্রন লিডার মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘নিজ এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাসলিমা আকতার নামে আরেক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন মোকাররম। গত ১৩ মে সৌদি আরব থেকে ঢাকায় এসে সরাসরি মুগদার মান্ডায় তাসলিমার বান্ধবী হেলেনার ভাড়া বাসায় ওঠেন তিনি। এক কক্ষের সেই বাসায় হেলেনা তার ১৩ বছরের মেয়েকে নিয়ে থাকে। মোকাররমের আসার খবরে সেদিনই তাসলিমা ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ওই বাসায় যান।’
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘ওই প্রাবসীর সঙ্গে তার প্রেমিকার আর্থিক লেনদেন হয়। এছাড়া ‘আপত্তিকর’ ছবি-ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল। মান্ডার ওই বাসায় তাসলিমা-মোকাররমের বিয়ে নিয়ে কথাবার্তা হয়।’
র্যাব কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, ‘তাসলিমা বিয়ে করতে রাজি না হলে মোকাররম তার দেওয়া ৫ লাখ টাকা ফেরত চান এবং আপত্তিকর ছবি-ভিডিও প্রকাশ করার হুমকি দেন। হেলেনার অভিযোগ, মোকাররম তার মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করে।’
এ পরিস্থিতিতে তাসলিমা ও হেলেনা মিলে মোকাররমকে হত্যার পরিকল্পনা করে। গত ১৪ মে সকালে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেয় তারা। প্রথমে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। কিছুটা চেতনা থাকায় মোকাররমের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। পরে সবাই মিলে হাতুড়ি ও বটি দিয়ে আঘাত করে মোকাররমের মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর লাশ বাথরুমে নিয়ে আট টুকরা করে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘লাশের টুকরা পলিথিন ও বস্তায় ভরে রাতে বাসার কাছাকাছি আবর্জনার স্তূপে ফেলে দেয় তারা। মাথা ফেলে আসে দূরে। ঘটনার পরদিন তারা বাইরে ঘোরাফেরা করে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করে। সবকিছু স্বাভাবিক দেখাতে তারা বাসার ছাদে আড্ডা ও খাবারের আয়োজনও করে।’
দুই দিন পর মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয় লোকজন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে পরিচয় নিশ্চিত হয়। এরপর রবিবার রাতে হেলেনা ও তার মেয়েকে গ্রেফতার করে নিহতের মাথার অংশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় মোকাররমের চাচা রফিকুল ইসলাম সোমবার মুগদা থানায় মামলা করেন।
