পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বিনিয়োগে দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ গন্তব্য হতে চায় বাংলাদেশ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১১:৩৬ এএম
ছবি : সংগৃহীত
শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর একটি বেসরকারি হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত ‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনৈতিক কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল- ‘ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থিতিস্থাপকতার সদ্ব্যবহার’।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশ গঠনমূলক ও পারস্পরিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী। প্রতিযোগিতামূলক, স্থিতিশীল ও নিরপেক্ষ ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করে দক্ষিণ এশিয়ায় বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান গন্তব্য হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায় বাংলাদেশ।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অর্থনৈতিক কূটনীতির গুরুত্ব তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আরও শক্তিশালী সহযোগিতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো সম্ভব হবে।
দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার স্বচ্ছ, টেকসই এবং পূর্বাভাসযোগ্য নীতিগত পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, প্রচলিত খাতের বাইরে গিয়ে অর্থনীতির বহুমুখীকরণে সরকার কাজ করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সৃজনশীল শিল্প এবং ক্রীড়া খাতের মতো উদীয়মান বৈশ্বিক ক্ষেত্রগুলোতে কার্যকর নীতিমালা ও পৃষ্ঠপোষকতা বৃদ্ধি করে বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও শক্তভাবে তুলে ধরতে হবে।
‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতির আলোকে জাতীয় উন্নয়ন কর্মসূচিকে সামনে রেখে সম্মেলনে দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কূটনীতির বিভিন্ন অগ্রাধিকার বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা জোরদারে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে কার্যকর সংলাপ ও মতবিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
সম্মেলনে তিনটি বিষয়ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম অধিবেশন ‘দ্য পলিসি কম্পাস’-এ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নীতিগত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। দ্বিতীয় অধিবেশন ‘ক্যাপিটাল ফর গ্রোথ’-এ বিনিয়োগ ও অর্থায়ন সংক্রান্ত বিষয় গুরুত্ব পাবে। আর তৃতীয় অধিবেশন ‘দ্য নিউ স্টেজ: এআই, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি অ্যান্ড স্পোর্টস’-এ উদ্ভাবননির্ভর উন্নয়ন এবং নতুন প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপান্তর ও টেকসই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যকে আরও এগিয়ে নেওয়াই এই সম্মেলনের প্রধান উদ্দেশ্য।
