হাসিনা কাণ্ড: নতুন করে উত্তপ্ত ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতে অবস্থান করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শেখ হাসিনার বক্তব্যকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি অবমাননাকর উল্লেখ করে এর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ঢাকা। একইসঙ্গে তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ভারতের প্রতি চাপ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে সরকার।
বুধবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় ভারতের নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার (এফসিসি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। আলোচনায় তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এবং ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানও অংশ নেন।
অনুষ্ঠানটির আগে বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল, যাতে শেখ হাসিনা ভারত থেকে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য না দেন। এ বিষয়টি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকেও উত্থাপন করা হয়। পাশাপাশি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদও এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান।
তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, শেখ হাসিনার ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং এর দায়ও সরকার নেবে না।
আরও পড়ুন : আইজিপির মন্তব্যে তোলপাড়: স্যার, এগুলোকে কি নিয়ে যাবো বাহিরে
এদিকে, শেখ হাসিনার বক্তব্যের পরপরই বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে ভারতের মাটিতে এ ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অসম্মান এবং জুলাইয়ের শহীদদের স্মৃতির প্রতি অবমাননাকর।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে জাতিসংঘের তথ্য ও তদন্তকে অস্বীকার করার চেষ্টা ইতিহাস বিকৃতির শামিল। একই সঙ্গে ২০১৩ সালের বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর অনুরোধের বিষয়ে ভারত এখনো কোনো জবাব দেয়নি বলেও জানানো হয়।
ঘটনাটি নিয়ে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরাও ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন। জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, একজন দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক ব্যক্তির রাজনৈতিক বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয় এবং দেশের জনগণ অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে তার বক্তব্য মূল্যায়ন করবে।
আরও পড়ুন : ভারত সফরের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী নেবেন : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
অন্যদিকে সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবিরের মতে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে চাইলে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই ফিরতে হবে। তবে তার বর্তমান বক্তব্য এবং অতীতের শাসনামলের বাস্তবতার মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. এম শাহিদুজ্জামান মনে করেন, এ ঘটনায় বাংলাদেশকে ঘিরে ভারতের নীতির দ্বৈততা প্রকাশ পেয়েছে। তার ভাষ্য, এতে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমদ বলেন, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্যকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তার মতে, জনসমর্থনই শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে কার্যকর ও ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
