মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করতে জুলাইকে ব্যবহারকারীরা ‘ধান্ধাবাজ’: আসিফ নজরুল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করার উদ্দেশ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ব্যবহারকারীদের ‘ধান্ধাবাজ বা মূর্খ’ বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাত পৌনে ৮টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে আসিফ নজরুল লেখেন, কেউ যদি মনে করেন মুক্তিযুদ্ধ মানে শেখ পরিবার ও আওয়ামী লীগের স্বেচ্ছাচারিতার স্বাধীনতা, তাহলে তিনি একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাইয়ের বিরোধী। আবার মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করার জন্য যারা জুলাইকে ব্যবহার করেন, তারা ধান্ধাবাজ বা মূর্খ।
নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি লেখক হুমায়ূন আহমেদের একটি লেখার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর হুমায়ূন আহমেদ ঢাকার পরিস্থিতি দেখতে বের হয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে একটি নারকীয় দৃশ্য দেখেছিলেন। সেখানে এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার পর ফেলে রাখা হয়েছিল। মেয়েটি বিহারি ছিল বলে লেখায় উল্লেখ করা হয়েছিল।
এর পরদিন, ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার স্টেডিয়ামে কয়েকজন কথিত রাজাকারকে প্রকাশ্যে বেয়নেট দিয়ে হত্যা করার ঘটনা ঘটে বলেও উল্লেখ করেন আসিফ নজরুল। তার দাবি, ইতালীয় সাংবাদিক ওরিয়ানা ফালাচি ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন এবং পরে এ বিষয়ে লিখেছিলেন।
আসিফ নজরুল বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কিছু ব্যক্তি এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ধারী কিছু মানুষের মাধ্যমে দেশে বিভিন্ন নারকীয় ও পাশবিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে ব্যক্তিবিশেষের এসব অপকর্মের কারণে মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে—এমন কথা কেউ বলেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ৮ আগস্ট একজন পতিত প্রধানমন্ত্রীর অন্তর্বাস প্রদর্শনের ঘটনাটি অত্যন্ত অনুচিত ও গর্হিত। একইভাবে জুলাই যোদ্ধার পরিচয় ব্যবহার করেও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন জঘন্য কর্মকাণ্ড হয়েছে। কিন্তু এসব ঘটনার কারণে পুরো জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বাতিল বা প্রশ্নবিদ্ধ করা সঠিক নয়।
সাবেক আইন উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে কথায় কথায় জুলাইকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি মরিয়া চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাইকে পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড় করানোরও একটি হীন প্রচেষ্টা চলছে, যা তার মতে অন্যায়।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন। অন্যদিকে স্বাধীন বাংলাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল বীরগাথাগুলোর একটি। এ দুটির মধ্যে কোনো বিরোধ নেই।
আসিফ নজরুলের ভাষ্য, বরং জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত প্রত্যাশা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অসামান্য আত্মত্যাগের লড়াই। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করলে জুলাইয়ের বিরোধিতা করার কোনো সুযোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
