এমপি নজরুলের বাসা থেকে উদ্ধার চিঠিতে কী লেখা ছিল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৭ এএম
ছবি : সংগৃহীত
সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া একাধিক হস্তলিখিত চিঠি ও নোটে সম্পর্কের টানাপোড়েন, বিশ্বাসভঙ্গ, অভিমান ও আত্মমর্যাদার নানা বক্তব্য উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।
জাতীয় সংসদের প্যাড, সাদা কাগজ এবং লাল-কালো কালিতে লেখা এসব নোটে কোথাও তীব্র অনুরাগ ও আক্ষেপ, আবার কোথাও প্রতারণার অভিযোগ ও সতর্কবার্তার ভাষা রয়েছে। কিছু লেখায় নিজেকে ‘দাবার ঘুঁটি’ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদের প্যাডে কালো কালিতে লেখা একটি অংশে বিশ্বাসভঙ্গের আক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে— “আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, কিন্তু জিততে পারিনি, হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবোই বা কেমনে, যুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে দেখি তুমিই তো ছিলে বিপক্ষ দলের সেনাপতি।”

আরেকটি সাদা পাতায় সম্পর্কের সামাজিক বৈধতা ও অধিকার নিয়ে লেখা হয়েছে— “সে ছিল অন্য নারীর স্বামী—কাগজে-কলমে অধিকার ছিল তার বউয়ের। আর আমি ছিলাম বোকা... অন্য কারো স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ!”
ওই লেখায় আরও বলা হয়েছে, কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের। সেখানে ভালোবাসাকে ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্য একটি পাতায় আস্থাভঙ্গের অভিযোগ তুলে লেখা হয়েছে— “সে বলেছিল—আজ থেকে আমরা বন্ধু, চলো একটা গেমস খেলি। আমিও সরল মনে বিশ্বাস করে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু কে জানতো—আমিই ছিলাম তোমার গেমসের দাবার এক ঘুঁটি।”
জাতীয় সংসদের প্যাডে লেখা আরেকটি পাতায় ক্ষোভের পাশাপাশি সতর্কবার্তার ভাষা রয়েছে। সেখানে লেখা— “আমি হেরেছি, তুমি জিতেছো। কারণ, আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। দেখে নাও, এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ।”

এ ছাড়া লাল কালিতে লেখা একটি সংক্ষিপ্ত নোটে আত্মমর্যাদার কথাও উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে— “শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই… তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো, ততটা সস্তা আমি নই!”
আবেগ ও ক্ষোভের এসব লেখার পাশাপাশি ‘১২-০৭-২০২৬’ তারিখ দেওয়া একটি আলাদা পাতাও উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই পাতায় ঘুমানোর আগে পাঠ করার জন্য ছয়টি ধর্মীয় আমল ও দোয়ার তালিকা রয়েছে।

এতে কালেমা, বিভিন্ন দোয়া, আয়াতুল কুরসি এবং নির্দিষ্ট সংখ্যায় দরুদ শরিফ ও ইস্তিগফারের উল্লেখ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, উদ্ধার হওয়া এসব নথির হাতের লেখা ও বিষয়বস্তু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে চিঠিগুলোর লেখক কে এবং কোন প্রেক্ষাপটে এসব লেখা হয়েছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
