পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারের প্রাপ্যতা বাড়াতে অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
দেশে অপুষ্টি ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ঘাটতি মোকাবিলা এবং খাদ্য পুষ্টিবর্ধন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘ফোর্টিফিকেশন অ্যালায়েন্স বাংলাদেশ’ (এফএবি)। বৃহস্পতিবার ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই উদ্যোগের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী খাদ্য পুষ্টিবর্ধন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, পুষ্টিবর্ধিত খাদ্যে নির্ধারিত গুণগত মান ও নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি যেসব জনগোষ্ঠীর পুষ্টির চাহিদা সবচেয়ে বেশি, তাদের কাছে এসব খাবারের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।
আয়োজকরা জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, শিক্ষাবিদ, সুশীল সমাজ ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এই জোটের লক্ষ্য হলো খাদ্যে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদান সংযোজনের কার্যক্রম জোরদার করা এবং সারা দেশে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ঘাটতি মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
গত কয়েক দশকে অপুষ্টি হ্রাসে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও ‘লুকানো ক্ষুধা’ নামে পরিচিত ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের ঘাটতি এখনো বড় জনস্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ। আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি১২, ফোলেট ও আয়োডিনের মতো অপরিহার্য পুষ্টি উপাদানের অভাব শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি, শেখার সক্ষমতা ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। একই সঙ্গে এটি প্রাপ্তবয়স্কদের স্বাস্থ্য, কর্মক্ষমতা ও সামগ্রিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ২ কোটি ৫৬ লাখ মানুষ পুষ্টিকর ও বৈচিত্র্যময় খাবার কেনার সামর্থ্য রাখেন না। এ ছাড়া প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি এবং ২০২৬ সাল নাগাদ আনুমানিক ১৬ লাখ শিশুর তীব্র অপুষ্টির চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় খাদ্য পুষ্টিবর্ধনকে তুলনামূলক সাশ্রয়ী ও সম্প্রসারণযোগ্য জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে সর্বজনীন লবণ আয়োডিনযুক্তকরণ কর্মসূচি আয়োডিনের ঘাটতিজনিত সমস্যা হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একইভাবে ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘এ’ সংযোজন এবং পুষ্টিবর্ধিত চাল ও গমের আটা ব্যবহারের উদ্যোগ বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
জাতীয় খাদ্য পুষ্টিবর্ধনসংক্রান্ত অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে সমন্বয়, সহযোগিতা ও অভিন্ন কর্মপরিকল্পনা জোরদার করাই এফএবির অন্যতম উদ্দেশ্য। জোটটির সভাপতিত্ব করছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি), আর সহসভাপতির দায়িত্বে রয়েছে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (গেইন)। জোটে সরকারি প্রতিষ্ঠান, ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সুশীল সমাজ এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা যুক্ত রয়েছেন।
এফএবি জাতীয় পর্যায়ে খাদ্য পুষ্টিবর্ধন কৌশল বাস্তবায়নে সহায়তা, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদার, নীতি ও কর্মসূচি প্রণয়নে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত তৈরি, পর্যবেক্ষণ ও মান নিশ্চিতকরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং পুষ্টিবর্ধিত খাবার সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান ও উত্তম চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতীয় পুষ্টি ও উন্নয়ননীতিতে খাদ্য পুষ্টিবর্ধন কার্যক্রমকে আরও কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ফোর্টিফিকেশন অ্যালায়েন্স বাংলাদেশের যাত্রা দেশের ‘লুকানো ক্ষুধা’ মোকাবিলা, পুষ্টির মান উন্নয়ন এবং নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পুষ্টিকর খাবারের প্রাপ্যতা বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সরকারি নেতৃত্বের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী, কারিগরি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, সুশীল সমাজ ও বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে জোটটি একটি সুস্থ ও শক্তিশালী জাতি গঠনে অবদান রাখতে পারে
