ভোটে বিজয়ী হলেও যাদের ‘ভাগ্য নির্ধারণ’ হবে আদালতে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত চার প্রার্থীর ভোটে বিজয়ী হওয়ার পরও তাদের আসন নিশ্চিত হবে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের ওপর। এই চার প্রার্থী হলো, চট্টগ্রাম-৪ আসনের আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-২ আসনের সারোয়ার আলমগীর, শেরপুর-২ আসনের ফাহিম চৌধুরী এবং কুমিল্লা-১০ আসনের মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া।
আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা ঋণখেলাপির অভিযোগের কারণে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল। জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীরা লিভ টু আপিল করে আদালতে আবেদন করলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মঞ্জুর করেছেন। আদালত বলেছেন, তারা নির্বাচন করতে পারবেন, তবে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফল প্রকাশ গেজেট আকারে হবে না।
অন্যদিকে, ফাহিম চৌধুরীর দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যু এবং মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার দলীয় প্রত্যয়নপত্র সংক্রান্ত আপিলও মঞ্জুর হয়েছে। আদালত বলেছেন, তারা ভোটে বিজয়ী হলেও ফলাফল স্থগিত থাকবে না। তবে আপিলকারীরা যদি মামলা জয়ী হন, তবে বিজয়ী প্রার্থীরা সংসদ সদস্য পদে থাকতে পারবেন না।
আরো পড়ুন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এগিয়ে বিএনপি
সুপ্রিম কোর্টের সংবিধান সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন। নির্বাচন থেকে বিতর্কিত প্রার্থীদের দূরে রাখাটা গণতন্ত্রের পক্ষে সঠিক হবে না। যদি প্রমাণ হয় তারা ঋণখেলাপি নন, তবে ভোটে বিজয়ী হলে ফলাফল গেজেটে প্রকাশ হবে।
চট্টগ্রাম-৪ আসনের আসলাম চৌধুরীর হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াতের লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেছে আপিল বিভাগ। চট্টগ্রাম-২ আসনের সারোয়ার আলমগীরের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শেরপুর-২ আসনের ফাহিম চৌধুরীর নাগরিকত্ব ইস্যুতে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে কোনো বাধা নেই। কুমিল্লা-১০ আসনের মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রার্থিতা মঞ্জুর হয়েছে, তবে ফলাফল আপিলের ওপর নির্ভর করবে।
আইনজীবীরা উল্লেখ করেছেন, এই চার প্রার্থী ভোটে হেরে গেলে মামলার আর কোনো প্রাসঙ্গিকতা থাকবে না। সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এমকে রহমান বলেন, এটি নতুন ও ব্যতিক্রমী আদেশ, যা আগে দেখা যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে ব্যারিস্টার সাইফুল আলম ইজ্জল বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বও ছিল ঋণখেলাপি প্রার্থীদের মনোনয়ন না দেওয়া। তবে আদালত প্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
