নিউইয়র্কে হয়ে গেলো তিনদিনের ‘বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বইমেলা’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং প্রবাসী বাঙালিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সফলভাবে সম্পন্ন হলো তিন দিনব্যাপী ‘দ্বিতীয় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বইমেলা-২০২৬’। মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মানবিক আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এই মেলার আয়োজন করা হয়।
গত ১৫ মে নিউইয়র্কের কুইন্সের লং আইল্যান্ড সিটিতে অবস্থিত ইভাঞ্জেল ক্রিশ্চিয়ান সেন্টারে মেলার আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে। নিউইয়র্কে বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধারা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মেলার সূচনা করেন। বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন এবং প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের পর মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি, প্রখ্যাত আমেরিকান লেখিকা ও অনুবাদক ক্যারোলিন রাইট।
‘একাত্তরের প্রহরী ফাউন্ডেশন-যুক্তরাষ্ট্র’ আয়োজিত এই মেলায় সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরুন নবী এবং সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব স্বীকৃতি বড়ুয়া।
তিন দিনব্যাপী এই মেলায় বাংলাদেশ, ভারতের কলকাতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। মেলা প্রাঙ্গণে প্রতিদিন নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, স্বরচিত কবিতা পাঠ এবং প্রকাশকদের মুখোমুখি আড্ডার আয়োজন করা হয়। উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা বইপ্রেমী ও সাহিত্যিকদের পদচারণায় মুখরিত ছিল মেলা প্রাঙ্গণ।
মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল বর্ণিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন রবীন্দ্রকন্যা শ্রেয়া গুহঠাকুরতা, লোকসংগীতশিল্পী জয় শংকর, দীনাত জাহান মুন্নী ও তাজুল ইমামসহ আরও অনেক প্রথিতযশা শিল্পী। প্রবাসী নতুন প্রজন্মের জন্য ছবি আঁকা, আবৃত্তি, রচনা ও নাচ-গানের বিশেষ প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা ছিল, যা মেলায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
মেলা উপলক্ষে ‘উত্থান’ নামক একটি বিশেষ স্মারক ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়। সমাপনী দিনে সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদানের জন্য গুণীজনদের মাঝে ‘বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বইমেলা ও নবী-জিনাত ফাউন্ডেশন সাহিত্য পুরস্কার’ প্রদান করা হয়।
১৭ মে রাতে এক জমকালো সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পর্দা নামে উত্তর আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ এই বাঙালি মিলনমেলার।
