ঈশ্বরদীতে বিএনপি-জামায়াত নেতাদের ভিজিএফ কার্ড ভাগাভাগি
মোস্তাক আহমেদ কিরণ,ঈশ্বরদী (পাবনা) থেকে
প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঈশ্বরদী পৌর এলাকার দুস্থ ও অভাবী মানুষের মধ্যে সরকারি ত্রাণ বিতরণের নামে ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কার্ড বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। পৌরসভায় জনপ্রতিনিধি না থাকায় ‘ঝামেলা’ এড়াতে এভাবে কার্ড ভাগাভাগির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পৌর কর্তৃপক্ষ। আর এই বণ্টন প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছেন পৌরসভার সচিব মো. জহুরুল ইসলাম।
জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে পৌর এলাকার চার হাজার ৬২৫টি দুস্থ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার লক্ষ্যে এই ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত ৫ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঈশ্বরদী পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকের মাধ্যমে দল দুটির নেতাদের মধ্যে কার্ড ভাগ করে দেওয়া হয়। পৌরসভার সচিব মো. জহুরুল ইসলামের সমঝোতাই ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পাবনা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের প্রতিনিধি হিসেবে পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা গোলাম আজম। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের প্রতিনিধি হিসেবে পৌরসভার সাবেক মেয়র মকলেছুর রহমান বাবলু এবং ও পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর প্রতিনিধি হিসেবে পৌর বিএনপির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন জনি উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চার হাজার ৬২৫টি কার্ডের মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দুস্থদের জন্য ৬২৫টি কার্ড সরকারিভাবে রেখে বাকি চার হাজার কার্ড বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে বিএনপিকে দুই হাজার, জামায়াতে ইসলামীকে এক হাজার ২০০ এবং বিএনপির বিদ্রোহী গ্রুপের নেতাদের জন্য ৮০০টি কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে পৌর সচিব মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, সাধারণত মেয়র ও কাউন্সিলরদের মাধ্যমে ওয়ার্ড পর্যায়ে দুস্থ পরিবারের মধ্যে ভিজিএফ কার্ড বিতরণ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে পৌরসভায় নির্বাচিত কোনো মেয়র বা কাউন্সিলর নেই। তাই বিতরণ প্রক্রিয়ায় যেন কোনো ঝামেলা না হয়, সেজন্য বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের ডেকে তাদের মধ্যে কার্ড ভাগাভাগি করে দেওয়া হয়েছে। তারাই এখন এসব কার্ড এলাকার দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করবেন বলে তিনি জানান।
তবে পৌরসভার এই সচিবের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মো. জহুরুল ইসলাম ঈশ্বরদী পৌরসভায় দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সচিব হিসেবে কর্মরত আছেন। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে লিজ দেওয়া এবং উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ঈশ্বরদী পৌরসভায় অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে বলেও সংবাদে প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।
পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা গোলাম আজম জানান, ‘জামায়াতে ইসলামী কখনও বাড়াবাড়ি করে না। শান্তিপূর্ণ সমাধানের স্বার্থে কার্ডের সংখ্যা কম পেলেও আমরা তা মেনে নিয়েছি।’
পৌর বিএনপির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন জনি বলেন, ‘আমি আমাদের নেতা জাকারিয়া পিন্টুর প্রতিনিধি হিসেবে বৈঠকে উপস্থিত ছিলাম। কার্ড বণ্টনে পৌরসভার যে সিদ্ধান্ত তা আমরা ছাড় দিয়ে মেনে নিয়েছি।’ পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মকলেছুর রহমান বাবলু বলেন, ভিজিএফ কার্ড প্রদানের জন্য পৌরসভা থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেখানে শুধু বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে না করে তিন পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে কার্ড ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।
