বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও নতুন বিমানঘাঁটির ঘোষণা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশের উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ, অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে বগুড়া এয়ারফিল্ডকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি সেখানে বিমান বাহিনীর পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি ও একটি ফ্লাইং একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বগুড়া এয়ারফিল্ড ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
পরিদর্শন শেষে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী বলেন, দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল কৃষি, শিল্প ও পর্যটনের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। এই অঞ্চলের উন্নয়নে আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি। রাজধানীর সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের আকাশপথের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করতে বগুড়া এয়ারফিল্ডকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিমান বাহিনী প্রধান জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কর্মসংস্থান বাড়বে। একই সঙ্গে দেশের আকাশসীমা সুরক্ষায় সামরিক সক্ষমতাও আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে বগুড়া এয়ারফিল্ড সামরিক ও বেসামরিক উভয় ধরনের বিমান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। দ্রুত বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে বেবিচক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং বিমান বাহিনী এ বিষয়ে সহযোগিতা করবে।
এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে বড় পরিসরের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের প্রথম সামরিক বিমান ঘাঁটি স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে। এছাড়া বগুড়া বিমানবন্দরে বিমান বাহিনীর তত্ত্বাবধানে পাইলট একাডেমি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এতে সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি বেসামরিক তরুণ-তরুণীরাও পাইলট হওয়ার সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর পরিচালনার জন্য প্রায় সাড়ে ১০ হাজার ফুট রানওয়ে প্রয়োজন। বর্তমান রানওয়ে সম্প্রসারণ করে সেই মানে উন্নীত করা হবে। ভবিষ্যতে এই বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক, অভ্যন্তরীণ ও সামরিক বিমান চলাচল পরিচালিত হবে। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য দ্রুত রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে।
রানওয়ে সম্প্রসারণে যেসব স্থাপনা বাধা সৃষ্টি করবে সেগুলো অধিগ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে বড়মহর এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি উচ্চ বিদ্যালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নতুন অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ঠেকাতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য, বেবিচকের চেয়ারম্যানসহ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
