×

রাজশাহী

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেলিভারি কক্ষে তালা, পথে সন্তান প্রসব প্রসূতির

Icon

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেলিভারি কক্ষে তালা, পথে সন্তান প্রসব প্রসূতির

ফাইল ছবি

প্রসববেদনায় কাতর এক গর্ভবতী নারীকে নিয়ে স্বজনেরা ছুটে এসেছিলেন হাসপাতালে। জরুরি বিভাগে দেখানোর পর তাঁকে পাঠানো হয় ডেলিভারি পয়েন্টে। সেখানে গিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের দাবি, ডেলিভারি কক্ষটি ছিল তালাবদ্ধ। দায়িত্বে থাকা মিডওয়াইফকেও শুরুতে পাওয়া যায়নি। পরে বাধ্য হয়ে সিএনজিতে করে অন্যত্র নেওয়ার পথে সন্তান প্রসব করেন ওই নারী।

শনিবার (৮ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মোছা. রঞ্জনা বেগম উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের কোদলা দিগর এলাকার বাসিন্দা।

স্বজনদের ভাষ্য, হঠাৎ প্রসববেদনা শুরু হলে রঞ্জনা বেগমকে দ্রুত রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগে তাঁকে দেখার পর ওপরতলার ডেলিভারি পয়েন্টে পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, ডেলিভারি কক্ষের দরজা-জানালা বন্ধ। পরে তাঁরা বুঝতে পারেন, কক্ষটি তালাবদ্ধ এবং সেখানে কোনো চিকিৎসক বা নার্স নেই।

প্রসববেদনায় মেঝেতে কাতরাতে থাকেন রঞ্জনা। স্বজনেরা বারবার অনুরোধ করার পর এক নার্স এসে তাঁকে দেখেন। তবে দায়িত্বে থাকা মিডওয়াইফকে তখন পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ স্বজনদের। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও চিকিৎসাসেবা না পাওয়ায় রোগীর অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

রোগীর স্বজন মো. জাকারিয়া শেখ বলেন, ‘নিচে টিকিট কেটে ওপরতলায় গিয়ে দেখি ডাক্তার-নার্স কেউ নেই। দরজা-জানালা সব বন্ধ। প্রায় আধা ঘণ্টা পর একজন নার্স আসেন। কিন্তু চিকিৎসা না করেই চলে যান। প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেছি। রোগী ব্যথায় ছটফট করছিল। পরে বাধ্য হয়ে তাঁকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’

রোগীর স্বামী মো. আল আমিন বলেন, ‘আমরা অসহায় মানুষ। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসে প্রায় তিন ঘণ্টা হয়রানির শিকার হয়েছি। আমাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। এর বিচার চাই।’ আরেক স্বজন আনোয়ারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘একজন এসে রোগীকে দেখে বলেন, এত চিল্লান ক্যা, অপেক্ষা করেন।’ এরপর রোগীকে সেখানে রেখে চলে যান। পরে রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাঁরা তাঁকে নিয়ে চলে আসেন।

পরে স্বজনেরা রঞ্জনা বেগমকে সিএনজিতে করে বগুড়ার শেরপুরের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে তাঁর প্রসব হয়। তিনি একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন বলে জানান স্বজনেরা।

অভিযোগের বিষয়ে মিডওয়াইফ রুমা মহন্ত বলেন, ‘বিকেলে আমার ডিউটি ছিল না। আমি সকাল থেকে ডিউটিতে ছিলাম। বিকেলে যার ডিউটি ছিল, তিনি ছুটিতে থাকায় তাঁকে রুমের দরজা-জানালা বন্ধ করে চলে যেতে বলি। পরে আমি এসে রোগীকে দুইবার দেখি। তখন রোগীর অনেক ব্যথা হচ্ছিল। তাঁকে জানাই, প্রায় দুই ঘণ্টার মতো সময় লাগবে, একটু হাঁটাহাঁটি করতে। তবে প্রচণ্ড ব্যথা থাকায় তিনি শুয়ে ছিলেন। পরে এসে দেখি তিনি চলে গেছেন।’ তবে ডেলিভারি কক্ষের দরজা-জানালা বন্ধ থাকা এবং শুরুতে তিনি সেখানে উপস্থিত না থাকার বিষয়টি রুমা মহন্ত স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আফম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক। মিডওয়াইফ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তবে তাঁর সেখানে থাকা উচিত ছিল। এ বিষয়ে আমি ব্যবস্থা নেব।’

এদিকে, ঘটনাটি যাতে গণমাধ্যমে প্রকাশ না পায়, সে জন্য রোববার (৯ আগস্ট) সকালে রোগীর স্বজনদের ফোন করে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করার অভিযোগও উঠেছে। স্বজনদের দাবি, হাসপাতালের ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে যাতে কোনো তথ্য দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে কতিপয় ব্যক্তি তাঁদের ফোন করে অনুরোধ করেন। তবে কারা তাঁদের ফোন করেছেন এবং ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁদের কী সম্পর্ক, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রসবকালীন জরুরি সময়ে সরকারি হাসপাতালে সেবা না পেয়ে একজন গর্ভবতী নারীকে পথে সন্তান প্রসব করতে হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা প্রসূতি সেবা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকাসহ বিভিন্ন দাবিতে চা শ্রমিকদের বিক্ষোভ

দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকাসহ বিভিন্ন দাবিতে চা শ্রমিকদের বিক্ষোভ

সিংগাইর নির্বাচনে হোঁচট খাচ্ছেন অর্ধশিক্ষিত প্রার্থীরা

শিক্ষাগত যোগ্যতার কড়াকড়ি সিংগাইর নির্বাচনে হোঁচট খাচ্ছেন অর্ধশিক্ষিত প্রার্থীরা

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা পেলো নতুন বাড়ির চাবি

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা পেলো নতুন বাড়ির চাবি

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাধ্যতামূলক ফ্রন্ট-অব-প্যাক সতর্কীকরণ লেবেল: আর বিলম্ব নয়

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাধ্যতামূলক ফ্রন্ট-অব-প্যাক সতর্কীকরণ লেবেল: আর বিলম্ব নয়

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App