সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের বারে অভিযান, ২৩০ পিস অননুমোদিত লিকার জব্দ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
শুল্ক-কর ফাঁকি ও অবৈধভাবে লিকার মজুত প্রতিহত করতে রাজধানীর গুলশান ও তেজগাঁও এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থা। অভিযানে ফু ওয়াং বোওলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডসহ চারটি বার ও রেস্টুরেন্ট থেকে কাগজপত্রবিহীন লিকার ও বিভিন্ন পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) অতিরিক্ত মহাপরিচালক রিজভী আহমেদ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
অভিযানে জব্দকৃত মূল বিষয়সমূহ:
ফু ওয়াং বোওলিং (গুলশান): কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের মালিকানাধীন এ প্রতিষ্ঠানে বৈধ কাগজপত্রবিহীন ২৩০ পিস লিকার পাওয়া যায়, যা কাভার্ডভ্যানে করে সরিয়ে নেওয়ার সময় আটক করা হয়। এছাড়া ওষুধ প্রশাসনের অনুমতিবিহীন শর্তযুক্ত পণ্য 'জিনশেং' এবং প্রায় এক কেজি উচ্চ শুল্কের জাফরান জব্দ করা হয়।
আরও পড়ুন: প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা পাবে ইউনিফর্ম, জানুয়ারিতে নতুন বই
মার্গারিটা লাউঞ্জ (গুলশান): এখান থেকে ৬০৮ লিটার মদ পাওয়া যায়, যার মধ্যে মাত্র ৩৬ লিটার দেশীয়। পুরো মজুতই জব্দ করা হয়েছে।
হোটেল হলিডে ইন ইন্টারন্যাশনাল (তেজগাঁও): হোটেলের নিজস্ব নামে লাইসেন্স না করে ‘হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনাল’-এর নামে বার পরিচালনার বিষয়টি ধরা পড়ে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমোদন সংক্রান্ত কোনো বৈধ নথি দেখাতে না পারায় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
আরএডাব্লিউ ক্যানভাস রেস্টুরেন্ট (তেজগাঁও): এ প্রতিষ্ঠান থেকে ২৯ লিটার অননুমোদিত লিকার জব্দ করা হয়।
অভিযানের পেছনের প্রেক্ষাপট:
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অবৈধ উৎস থেকে অ্যালকোহল সংগ্রহ, শুল্ক-মূসক ও আয়কর ফাঁকি এবং অননুমোদিত গ্রাহকদের কাছে পণ্য সরবরাহের অভিযোগের ভিত্তিতে এ সমন্বিত অভিযান চালানো হয়। সিআইআইডির নেতৃত্বে এ অভিযানে আয়কর গোয়েন্দা ইউনিট, সিআইসি, মূসক গোয়েন্দা এবং ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকার কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের প্রতিষ্ঠানে অভিযান নিয়ে বক্তব্য:
অভিযানটি কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে পরিচালিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী আহমেদ স্পষ্ট জানান যে, এখানে কোনো ব্যক্তি বা কনটেন্ট ক্রিয়েটর মুখ্য নয়। গোয়েন্দা তথ্য ও সংরক্ষিত নথিপত্রের ভিত্তিতেই কেবল এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তিনি একে কাকতালীয় ঘটনা বলে উল্লেখ করে জানান, অভিযুক্ত এসব বারের বিরুদ্ধে আগেও রাজস্ব বোর্ডের বিভিন্ন দপ্তরে মামলা রয়েছে।
