ঘুষের টাকা নিয়ে ডিএনসি সিপাহি বললেন- 'নিউজ করেন, আমার সাংবাদিক আছে'
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মাদক মামলায় আসামি করা থেকে রেহাই দেওয়া এবং জব্দকৃত মাদকের পরিমাণ কম দেখানোর আশ্বাস দিয়ে ‘দুপুরের ভাত খাওয়ার’ কথা বলে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) রংপুর বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের সিপাহি আল-আমিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ও অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জুন দুপুরে রংপুর বিভাগীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল মিঠাপুকুর উপজেলার বলদিপুকুর অভিরামনুরপুর গুচ্ছগ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় চোলাইমদ ব্যবসায়ী ও ভ্যানচালক আবজাল হোসেনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তাঁর খাটের নিচ থেকে ১০ লিটার চোলাইমদ এবং ৬০০ লিটার মদ তৈরির উপকরণ (ওয়াস) জব্দ করা হয়। পরে আবজাল হোসেনকে আটক করে মিঠাপুকুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (খ) সার্কেল অফিসে নেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, আবজাল হোসেনের স্বজনরা সার্কেল অফিসে গেলে অভিযানিক দলের সদস্য সিপাহি আল-আমিন তাদের ভয়ভীতি দেখান। তিনি আবজালের ছেলেদেরও মামলায় আসামি করার হুমকি দিয়ে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে মামলা থেকে রেহাই এবং জব্দ তালিকায় মাদকের পরিমাণ কম দেখানোর শর্তে আবজালের ছেলে আসাদুল ও তার সঙ্গে থাকা স্বজনরা ওই প্রস্তাবে রাজি হন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও মোবাইল ফোনের অডিও রেকর্ডিংয়ে দেখা যায়, সিপাহি আল-আমিন ‘দুপুরে লাঞ্চ করার’ কথা বলে ইতোমধ্যে ৫ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করছেন। একই সঙ্গে তাঁর মনোনীত এক ব্যক্তি মিঠাপুকুর সার্কেল অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে আসাদুলের কাছ থেকে বাকি টাকা গ্রহণ করছেন।
ভুক্তভোগী আসাদুল বলেন, আমাদের মামলায় আসামি করার ভয় দেখানো হয়েছিল। পরে মামলা থেকে বাঁচতে এবং আলামত কম দেখানোর শর্তে দুপুরে ভাত খাওয়ার জন্য বিকাশে টাকা এনে উনার মনোনীত ব্যক্তিকে দিই। পরে ফোন দিলে উনি টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং বিষয়টি কাউকে জানাতে নিষেধ করেন।
ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ও ভাইরাল ভিডিওর বিষয়ে জানতে চাইলে সিপাহি আল-আমিন কোনো অনুতাপ প্রকাশ না করে বলেন, আমার অনেক সাংবাদিক আছে। আপনারা নিউজ করেন। আমি এখানে চার বছর ধরে আছি।
এ বিষয়ে রংপুর বিভাগীয় গোয়েন্দা শাখার উপ-পরিচালক দিলারা রহমান বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
