বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে লাল কার্ডের রেকর্ড
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
ছবি- সংগৃহীত
৯৬ বছরের ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে আগে যা কখনো ঘটেনি, ২০২৬ আসরের প্রথম ম্যাচেই দেখা গেল সেই নজিরবিহীন দৃশ্য। স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচটি ২-০ গোলে মেক্সিকোর জয়ের চেয়েও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে রেফারির পকেট থেকে বের হওয়া তিনটি লাল কার্ডের কারণে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে এই ফুটবল মহাযজ্ঞের পর্দা ওঠে। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হওয়া এই ম্যাচে দুই দলের তিন ফুটবলারকে সরাসরি লাল কার্ড (মার্চিং অর্ডার) দেখান ব্রাজিলিয়ান রেফারি উইল্টন সাম্পাইও। বিশ্বকাপের ইতিহাসে উদ্বোধনী ম্যাচে এক ম্যাচে তিন-তিনটি লাল কার্ড দেখার ঘটনা এবারই প্রথম, যা বিশ্বমঞ্চে এক অনাকাঙ্ক্ষিত নতুন রেকর্ডের জন্ম দিল।
ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য ও শান্ত শান্ত কাটলেও দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হয় মাঠের উত্তেজনা ও কার্ডের মহড়া। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার স্ফেফেলো সিথোলে প্রথম লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এরপর ৮৪তম মিনিটে একই দলের থেম্বা জেওয়ানে লাল কার্ড দেখলে ৯ জনের দলে পরিণত হয় দক্ষিণ আফ্রিকা।
তবে উত্তেজনার পারদ ছড়ায় ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তেও; যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেক্সিকোর ডিফেন্ডার সেজার মন্তেস লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে দুই দল মিলিয়ে কার্ডের সংখ্যা দাঁড়ায় তিন-এ। ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে সর্বশেষ ২০১৮ সালের রাশিয়া ও ২০২২ সালের কাতার আসর মিলিয়ে পুরো টুর্নামেন্টে যেখানে মাত্র চারটি করে লাল কার্ড দেখা গিয়েছিল, সেখানে ২০২৬ আসরের প্রথম ম্যাচেই তিনটি লাল কার্ড দেখানোর ঘটনা ফুটবল বিশ্বে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে তিন বা তার বেশি লাল কার্ড দেখার ঘটনা এর আগে সাতবার ঘটলেও কোনোবারই তা টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে হয়নি। এর আগে ১৯৩৮ সালের আসরে ব্রাজিল ও তৎকালীন চেকোশ্লোভাকিয়ার মধ্যকার বিখ্যাত ‘ব্যাটল অব বোর্দো’ ম্যাচে প্রথমবার তিনটি লাল কার্ড দেখেছিলেন দর্শকেরা। পরে ১৯৫৪ সালের ‘ব্যাটল অব বার্ন’ নামে পরিচিত ব্রাজিল-হাঙ্গেরি ম্যাচে এবং দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৯৮ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ডেনমার্কের ম্যাচেও তিনটি করে লাল কার্ডের নজির রয়েছে।
তবে বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ চারটি লাল কার্ডের রেকর্ড রয়েছে ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপের নেদারল্যান্ডস-পর্তুগাল ম্যাচে। ‘ব্যাটল অব নুরেমবার্গ’ নামে পরিচিত সেই ম্যাচে দুই দলের চার ফুটবলার মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন এবং সেই আসরে মোট ২৮টি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল, যা এখনো একক বিশ্বকাপ আসরে সর্বোচ্চ।
লাল কার্ডের সংখ্যার বিচারে অন্যান্য সফল ও আলোচিত আসরগুলোর মধ্যে ১৯৯৮ ফ্রান্স বিশ্বকাপে ২২টি, ২০০২ কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে ১৭টি, ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ১৭টি, ১৯৯০ ইতালি বিশ্বকাপে ১৬টি এবং ১৯৯৪ যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে ১৫টি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল।
বিগত দুই আসরে রেফারিরা কার্ড দেখানোর ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয় থাকলেও ২০২৬ বিশ্বকাপের সূচনাতেই তিন লাল কার্ডের এই ঘটনা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এবারের আসরে মাঠের শৃঙ্খলা, ফাউল ও রেফারিংয়ের কড়াকড়ি নিয়ে আলোচনা আগামী দিনগুলোতে আরও জোরালো ও উত্তপ্ত হতে পারে।
